নথি-জটিলতায় আটকে বিরোধী দলের মর্যাদা, জট কাটাতে অবশেষে স্পিকারের শর্ত মানছে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও নথিপত্রের খামতির কারণে এখনও আনুষ্ঠানিক বিরোধী দলের মর্যাদা পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার সচিবালয়ের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দলের এই ‘চিঠি-জটিলতা’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে বুধবারই প্রয়োজনীয় নথিসহ নতুন চিঠি জমা পড়তে চলায় এই অচলাবস্থা কাটতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
নথির অভাব ও সচিবালয়ের অবস্থান
ঠিক কী কারণে তৃণমূলকে এখনও বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হয়নি, তা সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট করেছেন বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস। সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের পাঠানো পূর্ববর্তী চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপ-দলনেতা ঘোষণা করা হলেও, সেখানে বড় ধরনের আইনি খামতি ছিল।
বিধানসভার সচিব জানান, পরিষদীয় দলের ওই প্রস্তাবটি ঠিক কোন তারিখে পাস হয়েছিল, চিঠিতে তার কোনো উল্লেখ ছিল না। সবচেয়ে বড় বিষয়, সেই সিদ্ধান্তের সপক্ষে দলের বিধায়কদের কোনো স্বাক্ষর সংবলিত নথিপত্রও জমা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আসার পর, তিনি নিয়ম মেনে দলনেতা নির্বাচনের সপক্ষে বিধায়কদের স্বাক্ষর করা মূল প্রস্তাবপত্রটি সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পাল্টা ক্ষোভ ও স্পিকারের একচ্ছত্র অধিকার
সচিবালয়ের এই আপত্তিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বালিগঞ্জের বিধায়ক তথা মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি নিজেই স্পিকারকে হাত ধরে তাঁর চেয়ারে বসিয়েছিলেন, তারপরেও কেন এই ধরনের নথির অজুহাত তোলা হচ্ছে? এই জটিলতা নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরটিআই (RTI)-ও করা হয়েছে।
পাল্টা জবাবে বিধানসভার সচিব জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথি চেয়ে পাঠানোর সম্পূর্ণ একচ্ছত্র অধিকার স্পিকারের রয়েছে এবং বিধানসভায় তিনিই সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী।
জট কাটার সম্ভাবনা ও প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রয়োজনীয় নথির অভাবে বিরোধী দলের মর্যাদা আটকে থাকায় বিধানসভার ভেতরে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছিল। এই সাংবিধানিক জটিলতা দূর করতে গত মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে কালীঘাটের বৈঠকেই বিধায়কদের সর্বসম্মত স্বাক্ষরের মাধ্যমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেই মূল নথিপত্র ও বিধায়কদের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠিটিই বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার সচিবালয়ে জমা দিচ্ছে তৃণমূল পরিষদীয় দল। ফলে আইনি খামতি মিটে গিয়ে দ্রুতই কাটতে চলেছে বিধানসভার এই হাই-ভোল্টেজ জট।