মধ্যরাতে গাড়ি থেকে নেমে বিজেপি নেতাকে বেধড়ক মার, নরেন্দ্রপুরের ঘটনায় তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে এক বিজেপি নেতাকে মধ্যরাতে পথ আটকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আক্রান্ত বিজেপি নেতার নাম পাপ্পু সানা (৪৮)। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের আইসিইউ-তে (ICU) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এই হামলার নেপথ্যে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
উত্তেজনা ছড়াল খেয়াদহ এলাকায়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টো নাগাদ পূর্ব যাদবপুর এলাকা থেকে একটি গাড়িতে করে কয়েকজন যুবক নরেন্দ্রপুরের সংস্কৃতি আর্ট গ্যালারির সামনে আসেন। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে যুবকরা আচমকা বিজেপি নেতা পাপ্পু সানাকে ঘিরে ধরেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, তাঁরা এলাকা শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও তৃণমূল প্রতিনিয়ত উস্কানি দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিজেপি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে, যদিও দলগতভাবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার জেরে ওই এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।