বাঁকুড়ায় গ্রেফতার দুই দাপুটে তৃণমূল নেতা, জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে

জেলায় জেলায় তোলাবাজি, কাটমানি, হুমকি এবং মারধরের অভিযোগে শাসকদলের নেতাদের গ্রেফতারি অব্যাহত রয়েছে। এবার এই তালিকায় নতুন সংযোজন বাঁকুড়া জেলা। এক বিজেপি কর্মীকে জরিমানা ও ঘরছাড়া করার অভিযোগে ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন রক্ষিত এবং বালি খাদান থেকে মোটা অঙ্কের তোলা আদায়ের অভিযোগে কোতুলপুর ব্লকের মদনমোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ জাকির আলি ওরফে শেখ লিটনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ধৃত এই দুই জনপ্রতিনিধিকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়।
ঘরছাড়া বিজেপি কর্মী, দিতে হতো জরিমানা
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ঘরছাড়া ছিলেন ইন্দাস ব্লকের দিবাকরবাটি গ্রামের বিজেপি কর্মী সুখেন্দু রায়। অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে তাঁকে শুধু গ্রামছাড়া করাই হয়নি, এলাকায় ব্যবসা সচল রাখার জন্য তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দাবি করেন ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন রক্ষিত। সুখেন্দুর পরিবারের দাবি, সেই জরিমানা না দেওয়ায় তাঁদের খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়। অবশেষে মঙ্গলবার ইন্দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই বিজেপি কর্মী, যার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করে চন্দন রক্ষিতকে গ্রেফতার করে।
বালিঘাটে লক্ষ লক্ষ টাকার তোলাবাজি
অন্য একটি ঘটনায়, কোতুলপুরের খুনডাঙা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মদনমোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দাপুটে তৃণমূল উপপ্রধান শেখ জাকির ওরফে লিটনকে। কোতুলপুর এলাকার একটি বৈধ বালিঘাটের মালিক কাজল ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। অভিযোগকারী জানান, ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেছেন ওই উপপ্রধান।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই জোড়া গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতি দমনে প্রশাসনের উপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তারই প্রভাব দেখা যাচ্ছে এই সাম্প্রতিক গ্রেফতারিগুলোতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের এই গ্রেফতারি স্থানীয় স্তরে বিরোধী শিবিরের মনোবল যেমন বাড়াবে, তেমনই পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও ভাবমূর্তির ওপর বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে জেলার অন্য প্রান্তে চলতে থাকা তোলাবাজি বা রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাতেও কিছুটা লাগাম পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।