শ্মশানের সামনে উলঙ্গ শিশুর মূর্তি! ‘অনুপ্রেরণা’ প্রকল্প নিয়ে মমতাকে তীব্র খোঁচা অগ্নিমিত্রার

শ্মশানের সামনে উলঙ্গ শিশুর মূর্তি! ‘অনুপ্রেরণা’ প্রকল্প নিয়ে মমতাকে তীব্র খোঁচা অগ্নিমিত্রার

কলকাতার গড়িয়া শ্মশানে ‘অনুপ্রেরণা’ প্রকল্প ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া শ্মশান চত্বরে বিগত সরকারের ‘অনুপ্রেরণা’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি পাবলিক শৌচাগারের সামনে উলঙ্গ শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি বসানো নিয়ে শুরু হয়েছে এই বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র খোঁচা দিয়েছেন বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শৌচাগারের ফলক অনুযায়ী, এটি ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়’ তৈরি হয়েছিল এবং এর উদ্বোধক ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

বিতর্কের কারণ ও রাজনৈতিক সংঘাত

পাবলিক শৌচাগারের সামনে শিশুদের এই ধরনের মূর্তি স্থাপনকে নান্দনিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে আসাম্মানজনক বলে দাবি করেছেন বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তাঁর মতে, ‘অনুপ্রেরণা’ প্রকল্পের নামে এই ধরনের মূর্তির ব্যবহার জনসমক্ষে এক অদ্ভুত ও দৃষ্টিকটু বার্তা দেয়। বিগত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম জড়িয়ে থাকায় বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে এবং বর্তমান শাসক দল একে বিগত প্রশাসনের রুচিবোধ ও পরিকল্পনাহীনতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।

প্রভাব ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ

এই বিতর্কের ফলে কলকাতার বিভিন্ন সরকারি ও পুরপ্রকল্পে পূর্বতন সরকারের আমলে বসানো নান্দনিক মূর্তি বা ফলকগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে শ্মশান বা পাবলিক শৌচাগারের মতো জনবহুল স্থানগুলোতে সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের গাইডলাইন আরও কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের ‘বিতর্কিত’ মূর্তি অপসারণ বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

এক ঝলকে

  • গড়িয়া শ্মশানের পাবলিক শৌচাগারের সামনে উলঙ্গ শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
  • বিগত সরকারের ‘অনুপ্রেরণা’ প্রকল্পের অধীনে তৈরি এই শৌচাগারটি উদ্বোধন করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
  • বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই মূর্তির তীব্র সমালোচনা করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়েছেন।
  • এই ঘটনার জেরে সরকারি প্রকল্প ও সৌন্দর্যায়নের রূপরেখা নিয়ে নতুন করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *