‘কেউ বাঁচাতে আসবে না, আগে নিজের কেরিয়ার গড়ো!’ ত্বিষার মৃত্যুতে মেয়েদের চরম সত্যি মনে করালেন কঙ্গনা

‘কেউ বাঁচাতে আসবে না, আগে নিজের কেরিয়ার গড়ো!’ ত্বিষার মৃত্যুতে মেয়েদের চরম সত্যি মনে করালেন কঙ্গনা

মেয়েদের ক্যারিয়ার গড়ার কড়া বার্তা দিলেন কঙ্গনা

দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন তরুণীর রহস্যমৃত্যু এবং এর নেপথ্যে থাকা পণপ্রথার নির্মম রূপ সমাজকে নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের স্ত্রী ত্বিষা শর্মা এবং উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় দীপিকা নাগরের মর্মান্তিক মৃত্যু ভারতীয় সমাজের এক গভীর অবক্ষয়কে সামনে এনেছে। শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আর্থিক স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের ডাক

এই সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে দেশের তরুণীদের উদ্দেশে অত্যন্ত কঠোর ও বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি মেয়েদের চোখ ধাঁধানো বিয়ের হাতছানি এড়িয়ে সবার আগে আর্থিক স্বাধীনতা এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিয়ের পর দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে মেয়েরা বাপের বাড়ির সাহায্য চাইলেও সমাজ তাদের এক প্রকার একা করে দেয়। তাই জীবন নিজের শর্তে তৈরি করা এবং নিজের হিরো নিজে হওয়াই একমাত্র বাঁচার পথ।

পণের বলী ও নির্মম বাস্তব

বিজেপি সাংসদের এই ক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে ভোপালে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির পরিবারে আইটি পেশাদার ত্বিষা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার এবং গ্রেটার নয়ডায় কোটি টাকা খরচে বিয়ের পর দীপিকা নাগরের বহুতল থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা। দুটি ক্ষেত্রেই শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে লাগাতার পণ সংক্রান্ত নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে। উচ্চশিক্ষিত এবং সচ্ছল পরিবার হওয়া সত্ত্বেও মেয়েদের এই পরিণতি প্রমাণ করে যে, কেবল শিক্ষা বা কোটি টাকার যৌতুক নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হলো নারীর স্বাবলম্বিতা, যা ছাড়া সমাজ ও সংসারে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা আসাম্ভব।

এক ঝলকে

  • দেশজুড়ে পণপ্রথা ও নির্যাতনের কারণে আইটি পেশাদার ত্বিষা শর্মা ও গৃহবধূ দীপিকা নাগরের মর্মান্তিক রহস্যমৃত্যু হয়েছে।
  • ঘটনার জেরে দেশের তরুণীদের বিয়ের আগে ক্যারিয়ার গড়ে আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন কঙ্গনা রানাওয়াত।
  • ক্ষোভ প্রকাশ করে কঙ্গনা জানান, বিপদের দিনে কেউ বাঁচাতে আসবে না, তাই মেয়েদের নিজের হিরো নিজেকেই হতে হবে।
  • পুলিশ অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে পণপ্রথা নিগ্রহ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *