অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিস, এবার সুর চড়ালেন মেয়র ফিরহাদ!

অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিস, এবার সুর চড়ালেন মেয়র ফিরহাদ!

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে কলকাতা পুরনিগমের (কেএমসি) নোটিস পাঠানোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ১৮৮ এ হরিশ মুখার্জি রোড এবং ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ির ‘অবৈধ অংশ’ আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নির্মাণ না ভাঙলে পুরসভাই তা গুঁড়িয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে নিজের দায় এড়িয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

রাজনৈতিক লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি অভিষেকের

পুরসভার এই নোটিস পাওয়ার পরই মঙ্গলবার নিজের কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিষেক সাফ জানান, এই ধরনের নোটিস পাঠিয়ে তাঁর মাথা নত করা যাবে না এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক লড়াই জারি থাকবে। উল্লেখ্য, যে বাড়ির নিচে ‘অভিষেক হার্ডওয়্যার’ দোকানটি অবস্থিত, সেটির মালিকানা মূলত তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। অভিষেক দাবি করেছেন, এই বাড়িটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কো ম্পা নি তাঁকে দিয়েছে এবং নোটিসটিও ওই সংস্থার নামেই পাঠানো হয়েছে। ৪০০ (১) ধারায় এই নোটিস পাঠিয়েছে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।

আমরা পলিসি মেকার, দায় এড়ালেন মেয়র

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস পাঠানোর এই নজিরবিহীন ঘটনায় পুরসভার অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিল্ডিং বিভাগের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না। তাঁর বক্তব্য, পুরসভার আইন অনুযায়ী তিনি একজন ‘পলিসি মেকার’ বা নীতি নির্ধারক মাত্র। কোন বেআইনি বাড়ি ভাঙা হবে বা কাকে নোটিস দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে কলকাতা পুরনিগমের কমিশনারের। বিল্ডিং বিভাগ স্বাধিকার বলেই এই পদক্ষেপ করেছে, এতে মেয়রের কোনো ভূমিকা নেই।

আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে শাসকদলের অন্দরে এবং রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে। একদিকে যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একে কেন্দ্রীয় শাসকদলের চাপ ও রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে পুরসভার এই কড়া মনোভাবের কারণে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ৭ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পুরসভা সত্যিই কোনো উচ্ছেদ অভিযানে নামবে কি না, কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দ্বারস্থ হন কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *