“তুষ্টিকরণের রাজনীতিতেই আটকে সীমান্ত সুরক্ষার কাজ!” রাজ্যকে চাঁছাছোলা আক্রমণ শুভেন্দুর

কাঁটাতারের বেড়াজালে আটকে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা!
ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘ ৪ হাজার কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেই রয়েছে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা। সুদীর্ঘ এই সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা ও অনুপ্রবেশ রোধে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও রাজ্যের একটি বড় অংশে তা এখনও আসামাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি এই সীমান্ত সুরক্ষা ও কাঁটাতারের কাজ বাকি থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জমি জট ও সুরক্ষার সংকট
পশ্চিমবঙ্গের মোট ২২০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল বাকি ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বাকি অংশের মধ্যে অন্তত ৫৫৫ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ধরে রাখার কৌশলগত তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণেই এই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। অন্যান্য সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলো বিএসএফ-এর চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত জমি দিলেও পশ্চিমবঙ্গ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিয়েছে।
সীমান্তের এই বিশাল অংশ অরক্ষিত থাকার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে। কাঁটাতার না থাকায় এই ফাঁকা পথগুলো ব্যবহার করে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সোনা ও মাদক পাচার এবং জাল নোটের কারবার অবাধে চলছে। এর দূরগামী প্রভাব হিসেবে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জনমিতিতে পরিবর্তন আসার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সমন্বয়হীনতা ভবিষ্যতে সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এক ঝলকে
- ভারতের ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ২২০০ কিলোমিটারই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
- রাজ্যের ১৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও বাকি ৬০০ কিলোমিটার এখনও উন্মুক্ত।
- রাজনৈতিক ও তুষ্টিকরণের কারণে ৫৫৫ কিলোমিটার অংশে বিএসএফ-কে জমি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
- সীমান্ত অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।