‘কাটমানি-সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলুন, দুর্নীতি দেখলেই কড়া অ্যাকশন’: উত্তরকন্যায় শুভেন্দুর ডেডলাইন

‘কাটমানি-সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলুন, দুর্নীতি দেখলেই কড়া অ্যাকশন’: উত্তরকন্যায় শুভেন্দুর ডেডলাইন

সিন্ডিকেট ও কাটমানি রাজ খতমের কড়া বার্তা উত্তরবঙ্গে

উত্তরবঙ্গ সফরে এসে কাটমানি এবং সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সরকারি প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই দীর্ঘ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ফেরানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন।

দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার নির্দেশ

মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের মূল কারণ হলো বিগত দিনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি স্তরে তৈরি হওয়া দুর্নীতির জাল ছিন্ন করা। বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়েছেন, কাটমানি বা সিন্ডিকেটের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ ও প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। এমনকি প্রশাসনের কেউ যদি এই অনিয়মে মদত দেয়, তবে তাকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। একইসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল জমানার বালিপাচার, গোরুপাচার এবং মাদকচক্রের মতো বেআইনি কারবার সম্পূর্ণ বন্ধ করার পাশাপাশি শিলিগুড়ি পুরসভা ও এসজেডিএ-র বিগত দিনের দুর্নীতির ফাইল খুলে দ্রুত তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উন্নয়ন ও সমন্বয়ে নতুন রূপরেখা

এই কড়া বার্তার সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে চলেছে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলায়। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং—এই পাঁচ জেলার উন্নয়নকে গতিশীল করতে সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে এতদিন আটকে থাকা রেল সহ কেন্দ্রের বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলি রাজ্যের দ্রুত এনওসি (নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট) পাওয়ায় গতি পাবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং আসামের মডেলে চা বাগানের হাল ফেরানোর যে রূপরেখা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্রে বড়সড় ইতিবাচক বদল আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজ খতমের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
  • বিগত জমানার দুর্নীতি, বালি ও গোরুপাচার এবং মাদকচক্র রুখতে পুলিশ-প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ।
  • শিলিগুড়ি পুরসভা ও এসজেডিএ-র দুর্নীতির তদন্তের পাশাপাশি আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরুর জন্য এনওসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
  • উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, চা বাগানের সংস্কার এবং বর্ষার আগে বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতার নির্দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *