সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে চরম অপমানের কথা ফাঁস করলেন পরমব্রত!

সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে চরম অপমানের কথা ফাঁস করলেন পরমব্রত!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই ওলটপালট হতে শুরু করেছে টলিউডের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় লাভ করেছে বিজেপি। আর এই ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই টলিউড ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের ‘ব্যান কালচার’ বা বয়কট সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন একসময়ের শাসকদল ঘনিষ্ঠ তারকারা। বুধবার সন্ধ্যায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওর এক বিশেষ বৈঠকে অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি এখন টলিপাড়ার সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

ক্ষমতার হস্তান্তর ও টলিউডের নতুন সমীকরণ

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টলিউডের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের দায়িত্বভার সঁপে দিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ওপর। এর ফলে কার্যত টলিউডের কর্তৃত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ‘বিশ্ব ব্রাদার্স’ খ্যাত অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসকে। বুধবারের বিশেষ বৈঠকে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে রুদ্রনীল ঘোষের পাশে বসেই নিজের ক্ষোভ উগরে দেন পরমব্রত।

বিগত ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল জুড়ে ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সঙ্গে টেকনিশিয়ান ও পরিচালকদের যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, পরমব্রত ছিলেন তার প্রথম সারিতে। নন-মেম্বারদের নিয়ে কাজ করার অধিকার এবং কাজের সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে সরব হয়ে পরিচালকরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরমব্রতর অভিযোগ, তৎকালীন মন্ত্রী বা ফেডারেশনের কর্তারা তাঁদের সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে দেননি। উল্টোদিকে সৃজিত মুখোপাধ্যায় বা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকদের কাজে অসহযোগিতা করা হয়েছিল।

বাধ্য হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা এবং অলিখিত বয়কট

আইনি লড়াইয়ে নামার পর টলিউডে অলিখিতভাবে ‘ব্যান’ বা বয়কটের মুখে পড়তে হয়েছিল পরমব্রতকে। কাজ হারিয়ে তীব্র সংকটে পড়ার সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে পরমব্রত আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, সেই সময়েই তাঁর ও স্ত্রী পিয়ার সদ্যোজাত সন্তানের জন্ম হয়। কোনো উপায় না থাকায়, স্রেফ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এবং রুজি-রুটির টানে দাঁতে দাঁত চেপে তিনি তখন ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কীভাবে শিল্পীদের কণ্ঠরোধ ও ব্যক্তিগত অপমান করা হতো, এই ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

ভবিষ্যতের প্রভাব ও টলিপাড়ার শুদ্ধিকরণ

এই বিস্ফোরক পরিস্থিতির পর টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, সৌরভ দাস সহ অন্য কলাকুশলীদের সামনে পরমব্রত স্পষ্ট জানান, সিনেমার কাজের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ (জয় বাংলা, জয় শ্রীরাম বা লাল সেলাম) কোনো বাধা হওয়া উচিত নয়। সিনেমা যাদের মূল পেশা, সেই শিল্পী ও কলাকুশলীদের হাতেই ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্ব থাকা উচিত।

সরকারি প্রতিনিধি রুদ্রনীল ঘোষ উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, টলিউড থেকে এই ‘দাদাগিরি’ ও বয়কট সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হবে এবং সমগ্র রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার কীভাবে একজন প্রথম সারির অভিনেতাকে নতজানু হতে বাধ্য করেছিল, তা প্রকাশের পর এখন টলিপাড়ায় দীর্ঘদিনের একনায়কতন্ত্রের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই পুরো বিষয়ে বিদায়ী শিবিরের স্বরূপ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *