বাবার স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকারে রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন রাহুল

বাবার স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকারে রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন রাহুল

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণ। এই বিশেষ দিনে বাবার প্রতি এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তাঁর পুত্র তথা কংগ্রেসের শীর্ষনেতা রাহুল গান্ধী। বাবার সঙ্গে কাটানো শৈশব ও কৈশোরের পুরোনো ছবির কোলাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাহুল অঙ্গীকার করেছেন, রাজীব গান্ধীর দেখা দক্ষ, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী ভারতের স্বপ্ন পূরণ করার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেবেন।

আজ সকালে দিল্লির ‘বীর ভূমি’-তে গিয়ে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “বাবা, আপনি যে আধুনিক, শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব। আপনার শিক্ষা, মূল্যবোধ ও স্মৃতি সবসময় আমার পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।”

নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

রাজীব গান্ধীর এই মৃত্যুবার্ষিকীতে বীর ভূমিতে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। দেশের আধুনিকীকরণে রাজীব গান্ধীর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে খাড়গে তাঁকে “আধুনিক ভারতের অন্যতম স্থপতি” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, রাজীব গান্ধী ভারতকে এমন এক নবীন জাতি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন যা হবে শক্তিশালী, স্বাধীন এবং মানবকল্যাণে অগ্রগণ্য। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব

১৯৪৪ সালের ২০ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা রাজীব গান্ধী ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ভারতের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরে একটি নির্বাচনী জনসভায় জঙ্গি সংগঠন এলটিটিই (LTTE)-র আত্মঘাতী বোমা হামলায় মাত্র ৪৬ বছর বয়সে নির্মমভাবে নিহত হন তিনি। সেই সময় রাহুল গান্ধীর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজীব গান্ধীর এই মৃত্যুবার্ষিকী এবং রাহুলের এই আবেগঘন বার্তা বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাবার স্বপ্নকে নিজের রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে রাহুল গান্ধী পরোক্ষভাবে দেশের যুবসমাজ ও কংগ্রেস কর্মীদের একতাবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক ভারতের যে ভিত রাজীব গান্ধী গড়েছিলেন, বর্তমান প্রজন্মে তার প্রাসঙ্গিকতা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতিকে আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *