আরজি কর রহস্যভেদে এবার সিবিআইয়ের স্পেশাল ‘সিট’! অখণ্ড টাইমলাইন চাইল হাইকোর্ট

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড় এল। মামলার সত্য উদ্ঘাটন এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের শিকড়ে পৌঁছাতে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম-অধিকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঘটনার অভিশপ্ত রাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনাক্রম বা ‘টাইমলাইন’ নতুন করে এবং নির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখার জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের উচ্চ আদালত। মামলার স্বার্থে সিবিআই-কে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সুদূরপ্রসারী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গতিপ্রকৃতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আদালত
এদিনের শুনানিতে সিবিআই-এর বিগত দিনের তদন্তের শ্লথ গতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে এক প্রকার ভর্ৎসনা করেছে হাইকোর্ট। গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালতে ২৪ পাতার প্রাথমিক চার্জশিট দাখিল করার পর থেকে পরবর্তী ১ বছর ৭ মাসে আসলে কী তদন্ত হলো, তা নিয়ে ধারালো প্রশ্ন তোলেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি। আদালতের এই প্রশ্নের মুখে সিবিআই আইনজীবীরা পাল্টা জবাবে জানান যে তদন্ত থমকে নেই। এই দীর্ঘ সময়ে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বয়ান ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সম্প্রতি বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ব্যক্তিগত কারণে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোয় প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশে গঠিত বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নতুন ডিভিশন বেঞ্চে বর্তমানে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
খাবারের টেবিল থেকে শেষকৃত্য
রহস্যের জট খুলতে আদালত সিবিআই-কে ঘটনার রাতের একটি অখণ্ড টাইমলাইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তরুণী চিকিৎসকের সহকর্মীদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় থেকে শুরু করে নির্যাতিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত মাঝের সময়ে ঠিক কী কী ঘটেছিল এবং সেখানে কারা কারা উপস্থিত ছিলেন, তার সম্পূর্ণ বিবরণ খতিয়ে দেখতে হবে। আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আসবে এবং কোনো প্রভাবশালী চক্র ঘটনা আড়ালের চেষ্টা করে থাকলে তাও সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। একটি বিশেষায়িত ‘সিট’ গঠন এবং আদালতের এমন পুঙ্খানুপুঙ্খ নজরদারির কারণে আরজি কর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো।