শৃঙ্গ জয়ের আনন্দ রূপ নিল চরম বিষাদে! এভারেস্ট ছুঁয়ে ফেরার পথেই নিভে গেল দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর জীবনপ্রদীপ

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার আজন্ম লালিত স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল। কিন্তু সেই সাফল্যের আনন্দ স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এভারেস্টের চূড়া ছুঁয়ে নিচে নেমে আসার পথে তীব্র অসুস্থতায় প্রাণ হারালেন দুই ভারতীয় পর্বতারোহী অরুণ কুমার তিওয়ারি এবং সন্দীপ আরে। নেপালের ‘এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলতি মরশুমে এভারেস্ট অভিযানে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর এই আকস্মিক প্রয়াণের ফলে চলতি মরশুমে এভারেস্টে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে। এর আগে মে মাসের এই অভিযানে তিন নেপালি পর্বতারোহীরও মৃত্যু হয়েছে।
ক্লান্তি ও প্রতিকূল পরিস্থিতির থাবা
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ঋষি ভাণ্ডারি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৫টা নাগাদ অরুণ কুমার তিওয়ারি সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু আসল বিপর্যয় ঘটে ফেরার সময়ে। অবতরণের সময় এভারেস্টের অত্যন্ত বিপজ্জনক অংশ হিসেবে পরিচিত ‘হিলারি স্টেপ’-এর কাছে এসে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুই পর্বতারোহীই নেমে আসার সময় প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা শেরপারা আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তীব্র ঠাণ্ডা, কম অক্সিজেন এবং শরীরের চরম ক্লান্তির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযানের সাফল্য ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বুধবার বিভিন্ন দেশের মোট ২৭৪ জন পর্বতারোহী সফলভাবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন। এই সফলদের তালিকায় রয়েছেন ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) মাত্র ২১ বছর বয়সী মহিলা পর্বতারোহী সানিকা শাহ। তবে একই সাথে এত বিপুল সংখ্যক পর্বতারোহীর শৃঙ্গ জয় এবং তার সমান্তরালে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা এভারেস্ট অভিযানের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যা এবং ফেরার পথে পর্বতারোহীদের চরম ক্লান্তিই এই ধরণের ট্র্যাজেডির মূল কারণ, যা আগামী দিনে পর্বতারোহণের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও বাড়তি সতর্কতার তাগিদ দিচ্ছে।