কলকাতায় বৃষ্টির আকাল থাকলেও ভিজবে দক্ষিণের নয় জেলা, ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস!

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাংশ। চড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, তখন আবহাওয়া দফতর রাজ্যজুড়ে এক মিশ্র পূর্বাভাস জারি করেছে। কলকাতার কপালে এখনই স্বস্তির বৃষ্টি না জুটলেও, শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের নয়টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো কোনো জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
জোড়া অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যা বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ এবং উত্তর বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে ওড়িশা উপকূল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ড ও ছত্তীসগঢ়ের ওপর দিয়ে আরও একটি অক্ষরেখা অবস্থান করছে। অন্যদিকে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ওপর থাকা ঘূর্ণাবর্তটি বর্তমানে দক্ষিণ বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এই তিন আবহাওয়াগত সিস্টেমের কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা মূলত উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের নির্দিষ্ট কিছু অংশে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি
এই জলীয় বাষ্পের প্রভাবে শুক্রবার থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। তবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মতো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বৃষ্টি হলেও গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কমবে না। উত্তর ২৪ পরগনায় আগামী সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবারের আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়িতে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ চলতে পারে।
কলকাতার অস্বস্তি বহাল
আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতরের সূত্রানুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলিতে আপাতত বড় কোনো ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। মাঝেমধ্যে দু’-এক পশলা সামান্য বৃষ্টি হলেও তা কেবল বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়িয়ে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেবে। শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৯ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে কলকাতা ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে গরমের তীব্রতা এখনই কমছে না।