জ্বালানির আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্তের পকেট, ১০ দিনে ৩ বার বাড়ল পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম!

জ্বালানির আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্তের পকেট, ১০ দিনে ৩ বার বাড়ল পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম!

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার জেরে দেশের বাজারে আবারও মহার্ঘ হলো জ্বালানি তেল। গত ১৫ ও ১৯ মে-র পর শনিবার সকালে দেশজুড়ে ফের বৃদ্ধি পেয়েছে পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম। গত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এই নিয়ে তৃতীয় বার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটল। নতুন করে এই দাম বাড়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষের কপালে।

কলকাতায় সেঞ্চুরি পার করে ছুটছে পেট্রল

শনিবার সকাল থেকে কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ৯৪ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকা ৬৪ পয়সা। পাশাপাশি, কলকাতায় ডিজ়েলের দামও লিটার প্রতি ৯৫ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৭ টাকা ২ পয়সা। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাইক চালকদের দৈনিক খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল, অন্যদিকে বাস ও ট্যাক্সির মতো গণপরিবহণের ভাড়াও বৃদ্ধির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় সিএনজিও মহার্ঘ

রাজধানী নয়াদিল্লিতে শনিবার প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ৮৭ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৯ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজ়েলের দাম ৯১ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ৪৯ পয়সায়। গত ১০ দিনে দিল্লিতে সব মিলিয়ে পেট্রলের দাম বাড়ল প্রায় পাঁচ টাকা। পেট্রল-ডিজ়েলের পাশাপাশি দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় রান্নার ও যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম কমপ্রেস্‌ড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজি-র দামও কেজিতে এক টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিল্লিতে প্রতি কেজি সিএনজি-র নতুন দাম হয়েছে ৮১ টাকা ৯ পয়সা এবং নয়ডা ও গাজ়িয়াবাদে তা বিক্রি হচ্ছে ৮৯ টাকা ৭০ পয়সায়। তবে কলকাতায় সিএনজি-র দাম নতুন করে বাড়ার কোনো খবর নেই।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও তীব্র উত্তেজনার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত তার চাহিদার সিংহভাগ জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। এই পরিস্থিতির জেরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার সুরক্ষিত রাখতে দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে। জ্বালানির এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *