আমেরিকাকে বড় ধাক্কা দিতে প্রস্তুত ইরানের বিধ্বংসী ড্রোন বাহিনী!

যুদ্ধের ভয়ংকর ক্ষত দ্রুত কাটিয়ে উঠে নতুন করে সামরিক শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই তেহরানে পুরোদমে ড্রোন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আমেরিকার যেকোনো সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা করতে এবং পাল্টা শিক্ষা দিতে একটি শক্তিশালী ড্রোন ফৌজ প্রস্তুত করছে তারা। একাধিক সূত্রের দাবি, অনুমানের চেয়েও বহুগুণ দ্রুত গতিতে ইরানের এই সামরিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যেই তাদের পূর্বের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
আমেরিকার কপালে চিন্তার ভাঁজ
মার্কিন সামরিক আধিকারিকদের মতে, অন্যান্য ভারী অস্ত্র তৈরিতে ইরানের কিছুটা সময় লাগলেও ড্রোন প্রযুক্তিতে তারা অবিশ্বাস্য গতিতে এগোচ্ছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর জন্য এই ড্রোন বাহিনী আগামী দিনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন করে কোনো সংঘাত তৈরি হলে ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি এই ড্রোনের মাধ্যমেই ইরান মিটিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিপূর্বে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছিল যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে ওয়াশিংটনের নিজস্ব গোয়েন্দা রিপোর্টই এখন সেই দাবিকে ভুল প্রমাণ করছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরেও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট সচল রয়েছে।
নেপথ্যে চিন ও রাশিয়ার ছায়া
ইরানের এই আকস্মিক সামরিক উত্থানের পেছনে চিন ও রাশিয়ার বড় ধরনের সমর্থন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালীর অবরোধ এড়িয়ে ইরানকে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে গেছে চিন। যদিও বেজিং এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি মস্কোর পক্ষ থেকেও তেহরানকে বিপুল সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মূলত এই দুই মহাশক্তির পরোক্ষ মদদেই ইরান শূন্য থেকে শুরু না করে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিজেদের সামরিক শক্তিকে পুনর্গঠিত করতে সক্ষম হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।