রুদ্রনীলের সঙ্গে বৈঠকে পরমব্রত, টলিউডে ‘দলবদলু’ কটাক্ষের ঝড়ে মুখ খুললেন পিয়া

রুদ্রনীলের সঙ্গে বৈঠকে পরমব্রত, টলিউডে ‘দলবদলু’ কটাক্ষের ঝড়ে মুখ খুললেন পিয়া

টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের সমীকরণ নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। সম্প্রতি বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের ডাকা একটি বৈঠকে টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে হাজির হয়ে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি পরমব্রতও রাজনৈতিক রঙ বদলে বিজেপির সমর্থক হলেন? তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই তীব্র বিতর্কের মাঝেই এবার মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তী।

ক্ষমা চাওয়ার নেপথ্যে আসল সত্যি

বিগত ২০২৫ সালে সিনে টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন পরমব্রত। পরবর্তীতে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি ক্ষমাও চেয়ে নেন। তবে গত বুধবারের বৈঠকে পরমব্রত খোলসা করেন, তৎকালীন পরিস্থিতিতে ঠিক কোন চাপের মুখে পড়ে তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, সেদিন তাঁর সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, বাধ্য হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন। টলিউডের এই ‘ব্যান কালচার’ বা বয়কট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অপমানের কথাও সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

বিতর্কের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে ২৫ বছরের বন্ধুত্বের খাতিরেই তিনি এই বৈঠকে এসেছিলেন বলে পরমব্রত স্পষ্ট করলেও, রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ইতিমধ্যেই পরমব্রতর অতীত মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। একুশ সালের দেউচা পাচামি কমিটি থেকে শুরু করে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রচার—সব মিলিয়ে পরমব্রতর এই আকস্মিক ‘সুর বদল’কে নেটিজেনদের একাংশ ‘সুবিধেবাদী’ বা ‘পাল্টিবাজ’ বলে কটাক্ষ করছেন। সমালোচকদের ধারণা, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে এবং নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই হয়তো এই অবস্থান বদল।

বিজেপি সমর্থনের জল্পনা উড়িয়ে দিলেন পিয়া

স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনা ও কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়েছেন পিয়া চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, পরমব্রতর বিজেপিকে সমর্থন করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি কেবল সিনে টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের কিছু অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। পিয়া আরও মনে করিয়ে দেন, গত ১৫ বছরে টলিউড শিল্পীদের মনে এই ভয়টা ঢুকে গেছে যে সিনেমা জগতে টিকে থাকতে হলে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে থাকতেই হবে। আর সেই ভয়ের কারণেই অনেকে দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান বদল করলেও, পরমব্রতর ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *