১৪ বছর পর হিলারি ক্লিনটনের স্মৃতি ফিরিয়ে কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিব, সস্ত্রীক মাদার হাউসে মার্কো রুবিও

১৪ বছর পর হিলারি ক্লিনটনের স্মৃতি ফিরিয়ে কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিব, সস্ত্রীক মাদার হাউসে মার্কো রুবিও

দীর্ঘ ১৪ বছরের অবসান ঘটিয়ে ভারতের ঐতিহ্যবাহী শহর কলকাতায় পা রাখলেন মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি (বিদেশ সচিব) মার্কো রুবিও। চারদিনের দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের শুরুতেই তিলোত্তমায় এসে এক মানবিক ও কূটনৈতিক বার্তা দিলেন তিনি। এর আগে ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন স্টেট সচিব হিলারি ক্লিনটন কলকাতা সফরে এসেছিলেন। তার পর থেকে দীর্ঘ সময় পর কোনো মার্কিন বিদেশ সচিবের এই আগমনকে ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

কলকাতায় পা রেখেই মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি তাঁর স্ত্রীসহ সরাসরি চলে যান মাদার টেরেসার প্রতিষ্ঠিত মাদার হাউসে। সেখানে তাঁরা প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কাটান এবং প্রার্থনা করেন। এরপর তাঁরা মাদার হাউসের অধীনস্থ ‘নির্মলা শিশুভবন’ পরিদর্শনে যান এবং সেখানকার শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। দীর্ঘদিনের ব্যস্ত কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে সফরের শুরুতেই এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কলকাতার সাধারণ মানুষ ও সুধী সমাজকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

কূটনৈতিক গুরুত্ব ও নতুন সমীকরণ

কলকাতার সফরসূচি শেষ করে আজ বিকেলেই মার্কিন বিদেশ সচিব সস্ত্রীক দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার কথা রয়েছে। চারদিনের এই দীর্ঘ সফরে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মতো একাধিক কৌশলগত বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। এছাড়া, রবিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও তাঁর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিল্লি ছাড়াও এই সফরে তাঁর আগ্রা এবং জয়পুর পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি বাণিজ্য ও কোয়াড জোটের ভবিষ্যৎ

মার্কো রুবিও-র এই সফরের মূল কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করা। বিশেষ করে চীনকে কাউন্টার করতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ‘কোয়াড’ (QUAD) জোটের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমেরিকার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ভারতে আসার পূর্বমুহূর্তে রুবিও এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত যত বেশি জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমেরিকা ততটাই তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত। ফলে এই সফরের পর দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *