১০০-র নিচে তৃণমূল, অবশেষে কি দেওয়ালের লেখা পড়তে শুরু করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়!

১০০-র নিচে তৃণমূল, অবশেষে কি দেওয়ালের লেখা পড়তে শুরু করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়!

ভোট মিটেছে, বাংলায় পালাবদলের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। কিন্তু সংশোধনাগারের চার দেওয়ালের মাঝে থেকেও রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ জারি রাখলেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা একশোর নিচে নেমে যাওয়া নিয়ে এবার দলের অন্দরমহলের পাশাপাশি মুখ খুললেন তিনিও। দীর্ঘদিনের চেনা দলের এই বিপর্যয়ে নিজের মানসিক কষ্টের কথা অকপটে স্বীকার করার পাশাপাশি দলের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

পথচ্যুতি এবং কৌশলে ব্যর্থতা

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, যে আদর্শ ও রণকৌশলকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস একসময় মহীরুহে পরিণত হয়েছিল, দল বর্তমানে সেই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আত্মবিশ্লেষণের সুরে তিনি জানান, বিজেপি বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কৌশল ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে শাসকদল। অন্যকে কালিমালিপ্ত করে নিজেদের পরিচ্ছন্ন দেখানোর যে চেষ্টা দল করেছিল, সাধারণ মানুষ তা একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি। আর এই জনবিচ্ছিন্নতার কারণেই মানুষ এবার ব্যালট বাক্সে তৃণমূলকে পরিত্যাগ করেছে।

‘সহ-রাঁধুনি’ ও আইপ্যাক বিতর্ক

দলের এই ফলাফলের জন্য সরাসরি নাম না করেও শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মূল ‘রাধুনি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, দলের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় যিনি বা যাঁরা ‘সহ-রাঁধুনি’ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন রেসিপি ও ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দল পরিচালনা করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু একজনকে কেন দোষ দেওয়া হচ্ছে! আইপ্যাক-এর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সংস্থাই দলের ক্ষতি করেছে এবং এর কর্ণধার খোদ অভিষেককে ‘টবে জবা ফুল’ বলে অভিহিত করেছেন।

ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা দিয়ে এই প্রবীণ নেতা জানান, এখনও সময় আছে ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মার খেয়েও কর্মীদের পাশে থাকার লড়াইয়ের আদর্শে ফিরে না এলে এবং একক কৃতিত্বের অহংকার না ছাড়লে দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে, কারণ একা লড়াই করে জেতা সম্ভব নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *