বাংলায় এবার পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, প্রতিদিন মিলবে ৫০০ টাকা

বাংলায় এবার পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, প্রতিদিন মিলবে ৫০০ টাকা

পশ্চিমবঙ্গে অবশেষে চালু হতে চলেছে মোদী সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আকাঙ্ক্ষিত প্রকল্প ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’। রাজ্যে সদ্য গঠিত নতুন সরকারের সবুজ সংকেত মেলার পরেই এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের (MSME) পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের রূপরেখা ও দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় MSME মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ও উন্নয়ন কমিশনার ডঃ রজনীশ কলকাতার নবান্নে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার মেলবন্ধন

রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন। গত সপ্তাহে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত-সহ সমস্ত থমকে থাকা কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প একে একে চালু করা হবে। সেই ঘোষণার পরশেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প কার্যকর করতে স্টেট মনিটরিং কমিটি এবং জেলা বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তিও জারি করে দিয়েছে। ফলে কেন্দ্রের এই ফ্ল্যাগশিপ স্কিমটি রাজ্যে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা রইল না।

আর্থিক বিকাশ ও কারিগরদের ক্ষমতায়ন

২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সংরক্ষণ এবং কারিগরদের স্বনির্ভর করে তোলা। বাংলায় এই প্রকল্পের সম্ভাবনা প্রবল, কারণ ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৭.৭৯ লক্ষ কারিগর ও শিল্পী পিএম বিশ্বকর্মা পোর্টালে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তারা আধুনিক কাজের জন্য উন্নত দক্ষতার প্রশিক্ষণ পাবেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন কারিগরদের দৈনিক ৫০০ টাকা হারে স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৫,০০০ টাকার টুলকিট ইনসেনটিভ মিলবে। এছাড়া ব্যবসা বাড়াতে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে প্রথম দফায় ১ লক্ষ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন শিল্পীরা।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে গ্রামীণ ও প্রায়-শহুরে অঞ্চলের অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড়সড় ইতিবাচক বদল আসবে। কামার, কুমার, রাজমিস্ত্রি, সুতোর কারিগর বা ভাস্করদের মতো সনাতনী পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সরাসরি আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাবেন। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনই উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রামীণ পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের এই যৌথ সমন্বয় রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *