তরুণদের কাঁধে ভর করেই কি আসবে বিকশিত ভারত! ৫১ হাজার সরকারি চাকরি বিলি করে বার্তা মোদীর

তরুণদের কাঁধে ভর করেই কি আসবে বিকশিত ভারত! ৫১ হাজার সরকারি চাকরি বিলি করে বার্তা মোদীর

দেশজুড়ে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নতুন উদ্যমে শুরু হলো ১৯তম ‘রোজগার মেলা’। শনিবার এই মেলা মঞ্চ থেকে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থায় একযোগে ৫১,০০০-এর বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিপুল নিয়োগকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের যাত্রায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সদ্য চাকরি প্রাপকদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, দেশ গঠনের এই মহৎ উদ্দেশ্যে নতুন কর্মীরাই আগামী দিনে মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছেন।

উন্নয়নের চালিকাশক্তি ও বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণরা

এবারের রোজগার মেলায় মূলত রেল, ব্যাঙ্কিং, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি ক্ষেত্রগুলিতে এই নিয়োগ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই নতুন কর্মীরা কেবল সরকারি চাকুরিজীবী নন, বরং ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ বা উন্নত রাষ্ট্র গড়ার সংকল্প পূরণের দায়িত্বশীল অংশীদার। সম্প্রতি পাঁচ দেশ সফর শেষে ফেরার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান বিশ্ব ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং তরুণ সমাজের কর্মক্ষমতা নিয়ে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। বিদেশি রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলি যেভাবে ভারতের সাথে অংশীদারিত্ব বাড়াতে আগ্রহী, তা আগামী দিনে দেশের তরুণদের জন্য আরও বড় বৈশ্বিক সুযোগ বা ‘গ্লোবাল এক্সপোজার’ তৈরি করবে।

কর্মসংস্থানের নতুন দিশা ও সামাজিক প্রভাব

কেন্দ্রীয় সরকারের এই রোজগার মেলা অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরি এবং সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী চাকরিপ্রার্থীদের লক্ষ্য করে আয়োজিত এই উদ্যোগে অষ্টম শ্রেণী উত্তীর্ণ থেকে শুরু করে স্নাতক, আইটিআই এবং ডিপ্লোমা ধারীদেরও আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের ব্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রামীণ ও মফস্বলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। একদিকে যেমন সরকারি দপ্তরগুলির শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত হবে, অন্যদিকে তেমনই হাজার হাজার পরিবারে আর্থিক স্থায়িত্ব আসবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার সচল রাখতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *