বিশ্ববাজারে তেলের বাজারে অস্থিরতার মাঝেই পাকিস্তানে কমল জ্বালানির দাম

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে যখন বিশ্বের একাধিক দেশ চরম চাপে রয়েছে, ঠিক তখনই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে কমল জ্বালানির দাম। শুক্রবার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৬ টাকা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম ৬.৮০ টাকা কমানোর বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকার কর্তৃক ঘোষিত এই নতুন মূল্য আজ, ২৩ মে থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশটিতে তেলের দাম হ্রাস পেল, যার ঠিক আগের সপ্তাহেও জ্বালানির দাম ৫ টাকা কমানো হয়েছিল।
মূল্য হ্রাসের কারণ ও বর্তমান চিত্র
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান এবং ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান সরকার প্রতি শুক্রবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম পর্যালোচনা করে আসছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই এই সাপ্তাহিক পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই সপ্তাহে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, মূল্য হ্রাসের পর পাকিস্তানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪০৩.৭৮ টাকা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪০২.৭৮ টাকা।
জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
টানা দুই সপ্তাহ জ্বালানির মূল্য হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত পেট্রোল প্রধানত ব্যক্তিগত যানবাহন, ছোট গাড়ি, রিকশা এবং মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত হয়, যা সরাসরি মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের বাজেটের সাথে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে, হাই-স্পিড ডিজেল মূলত ভারী পরিবহন খাত এবং বড় বাণিজ্যিক জেনারেটরে ব্যবহৃত হওয়ায় পণ্য পরিবহন খরচ কিছুটা কমতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে জ্বালানির দাম যে রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেই তুলনায় এই হ্রাস খুবই সামান্য। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুদ্ধের প্রভাবে কয়েক দফায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যার ধাক্কা সামাল দিতে এখনও হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।