টলিপাড়ায় ক্ষমতার পালাবদল, ইমপার শীর্ষ পদ থেকে সরলেন পিয়া সেনগুপ্ত

টলিপাড়ায় ক্ষমতার পালাবদল, ইমপার শীর্ষ পদ থেকে সরলেন পিয়া সেনগুপ্ত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহেই এবার বড়সড় রদবদল ঘটে গেল বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা ইমপা-তে (EIMPA)। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে সভাপতির আসনে থাকা পিয়া সেনগুপ্তকে সরিয়ে অবশেষে সেই চেয়ারে বসানো হলো প্রযোজক রতন সাহাকে। শুক্রবার সংগঠনের এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে টলিপাড়ার এই দীর্ঘদিনের একচেটিয়া ক্ষমতার অবসান ঘটে।

তীব্র ক্ষোভ ও নাটকীয় বৈঠক

সংগঠনের অন্দরের খবর, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই ইমপার প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশ পিয়া সেনগুপ্তকে সরানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। শুক্রবারের বার্ষিক সাধারণ সভায় সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বৈঠকে প্রায় ৩০০-র বেশি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরে একচেটিয়া আধিপত্য চালানো পিয়া সেনগুপ্ত এই বৈঠকটি বানচাল করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে পুলিশও মোতায়েন করা হয়।

বৈঠক চলাকালীন সদস্যদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন তৎকালীন সভাপতি। তীব্র বিরোধিতার মুখে তিনি একাধিকবার সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান। সভাপতি ও সম্পাদকের নিষ্ক্রিয়তার জেরে উপস্থিত সদস্যরা একযোগে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। পরবর্তীতে সর্বসম্মতিক্রমে ও ধ্বনিভোটের মাধ্যমে পিয়া সেনগুপ্তকে সরিয়ে অভিজ্ঞ প্রযোজক রতন সাহাকে ইমপার অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

থানা-পুলিশ ও আইনি জটিলতার শঙ্কা

ক্ষমতার এই নাটকীয় পালাবদল কেবল বৈঠকের চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা গড়িয়েছে থানা পর্যন্ত। বৈঠক চলাকালীন পিয়া সেনগুপ্ত শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ প্রযোজক-পরিবেশকদের অন্যতম প্রধান মুখ শতদীপ সাহা তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের পাল্টা অভিযোগ এনে শুক্রবার রাতে বৌবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আইনি দিক থেকে এই পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ অবশ্য এখনও কিছুটা ধোঁয়াশায়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ইমপার বৈধ সভাপতি পদে থাকার কথা পিয়া সেনগুপ্তের। ফলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তিনি এখনও নিজেকে সভাপতি দাবি করতেই পারেন। তবে বিরোধীদের স্পষ্ট বার্তা, আগামীতে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রতন সাহার নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী কমিটিই সংগঠনের সমস্ত কাজকর্ম পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ যেভাবে ভাঙতে শুরু করেছে, এই ঘটনা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *