যুদ্ধের ক্ষত সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তেহরান, আমেরিকাকে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানের শক্তিশালী ড্রোন ফৌজ

যুদ্ধের বিধ্বংসী ক্ষত দ্রুত কাটিয়ে উঠে নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টের সূত্র ধরে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরানে পুরোদমে ড্রোন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আমেরিকার যেকোনো সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা করতে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও পর্যাপ্ত ড্রোন বাহিনী গড়ে তুলছে তারা। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ধারণার চেয়েও অনেক বেশি গতিতে ইরানের এই সামরিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছয় মাসেই ফিরছে পূর্ণ সক্ষমতা
মার্কিন সেনার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিভিন্ন জটিল ও ভারী অস্ত্র তৈরিতে ইরানের কিছুটা বাড়তি সময় লাগলেও ড্রোন তৈরির ক্ষেত্রে তারা অবিশ্বাস্য গতিতে এগোচ্ছে। বর্তমান গতি বজায় থাকলে আগামী ৬ মাসের মধ্যেই ইরান তার পূর্বের সম্পূর্ণ ড্রোন সক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কোনো সংঘাত তৈরি হলে ক্ষেপণাস্ত্রের সাময়িক ঘাটতি ইরান তাদের এই অত্যাধুনিক ড্রোন বহর দিয়েই পুষিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে।
নেপথ্যে চিন ও রাশিয়ার কৌশলগত সমর্থন
মার্কিন প্রশাসন পূর্বে দাবি করেছিল যে হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইরানের এই দ্রুত সামরিক পুনরুত্থানের নেপথ্যে চিন ও রাশিয়ার বড় ধরনের সমর্থন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধ চলাকালীন সময়েও লাগাতার ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে গিয়েছে চিন। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের কারণে সরবরাহের গতি কিছুটা কমলেও তা কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি রাশিয়া থেকেও তেহরান বিপুল সামরিক ও প্রযুক্তিগত সাহায্য পেয়েছে। যদিও চিন শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
অক্ষত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
মার্কিন গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হলেও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এখনো সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। ফলে তেহরানকে একেবারেই শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে না। এই দ্রুত সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞার মুখেও ইরানের এই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে তেহরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।