বীরভূমে মধ্যরাতে রণক্ষেত্র নানুর, তৃণমূল নেতার বাড়িতে ব্যাপক বোমাবাজির নেপথ্যে কি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?

বীরভূমের নানুরে শাসকদলের অন্দরের বিবাদ এবার প্রকাশ্য রাস্তায় নেমে এল। শুক্রবার গভীর রাতে নানুরের থুপসারা অঞ্চলের তাখোরা গ্রামে তৃণমূলের একাংশের নেতা ও কর্মীদের বাড়ি লক্ষ্য করে পরপর বোমা ছোড়া হয়। মুহুর্মুহু বোমাবাজির শব্দে এবং ধোঁয়ায় কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে, যেখানে ব্যাগ ভরতি বোমা নিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতীকে পালিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করেছে।
মধ্যরাতের তাণ্ডব ও সিসিটিভি ফুটেজ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে তাখোরা গ্রামে তৃণমূল নেতা বাপ্পা চৌধুরী এবং কর্মী আলো চৌধুরী, রাহুল শেখ, শেখ ফিরোজ, শেখ নাজির ও আবুল হোসেন শেখের বাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। রাতভর চলা এই তাণ্ডবের জেরে গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়ায়। তৃণমূল কর্মী আলো চৌধুরীর বাড়ির বাইরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য, যেখানে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন যুবক ব্যাগে করে বোমা নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে পালাচ্ছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোয় বড়সড় রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বহিষ্কৃতদের প্রতিশোধ নাকি ক্ষমতার লড়াই?
এই হামলার নেপথ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক সমীকরণ উঠে আসছে। আক্রান্ত তৃণমূল নেতাদের দাবি, এই হামলার পেছনে রয়েছে দলেরই অপর একটি গোষ্ঠী। তোলাবাজির অভিযোগে কিছুদিন আগে যাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তারাই এখন প্রতিশোধ নিতে এই বোমাবাজি চালিয়েছে। অভিযুক্তরা দল থেকে বের হওয়ার পর অন্য কোনো রাজনৈতিক দলেও যোগ দেয়নি, বরং ‘বিক্ষুব্ধ’ হিসেবেই এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ফলে ক্ষমতা ও প্রতিশোধের এই মিশ্রণই নানুরকে নতুন করে অশান্ত করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
বীরভূমের রাজনীতিতে নানুর বরাবরই একটি সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। শাসকদলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বোমাবাজির ঘটনা নতুন করে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল। দল থেকে বহিষ্কৃত এবং অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত উপাদানগুলো যদি এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে বোমা-বারুদ নিয়ে তাণ্ডব চালায়, তবে তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে। পুলিশি তৎপরতায় দু’জন আটক হলেও, মূল চক্রীদের গ্রেপ্তার না করা গেলে আগামী দিনে নানুরে রাজনৈতিক হিংসা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।