যুবভারতীর সেই ‘বিতর্কিত’ মূর্তি অবশেষে অপসারিত, এবার কি দিকপাল ফুটবলারের আগমন?

সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে থেকে অবশেষে সরিয়ে ফেলা হলো বহুল চর্চিত ও বিতর্কিত সেই মাথাহীন ‘বল’ মূর্তিটি। গত ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এই মূর্তিটি ভেঙে ফেলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কাজ শুরু করে শনিবারের মধ্যে ভিআইপি গেটের সামনের এই কাঠামোটি অপসারণ করা হয়। ২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের সময় স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য্যায়নের অংশ হিসেবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নকশা করা এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল।
অপসারণের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
কোমর থেকে পা পর্যন্ত শরীরের অবয়ব, তার ওপর পৃথিবী এবং বিশ্ববাংলার লোগো সম্বলিত এই মূর্তির দু’টি পায়ে ছিল ফুটবল, যেখানে লেখা ছিল ‘জয়ী’। স্থাপনের পর থেকেই এই অদ্ভুত নির্মাণশৈলী নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়ামোদীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানাবিধ প্রশ্ন ছিল। নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর মতে, এই ‘বিদঘুটে ও অর্থহীন’ কাটামোটি ক্রীড়াসংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববাংলার লোগো সরানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এই অপসারণ তারই ধারাবাহিকতা। শুক্রবার মধ্যরাতে মূর্তির ওপরের অংশ কেটে ফেলা হলেও বর্তমানে শুধু বুট ও মোজার অংশটুকু পড়ে রয়েছে, যা দ্রুত সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে।
আগামী পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ক্রীড়ামন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই বিতর্কিত কাঠামোর পরিবর্তে যুবভারতীর প্রবেশদ্বারে বাংলার কোনো কিংবদন্তি ও দিকপাল ফুটবলারের মূর্তি স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও চূড়ান্তভাবে কার মূর্তি বসানো হবে, তা এখনো সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের নান্দনিক বিতর্কের অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সাথে, কোনো প্রথিতযশা ফুটবলারের মূর্তি স্থাপন করা হলে তা যুবভারতীর গরিমা বৃদ্ধি করবে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করবে বলে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।