বাংলায় অব্যাহত বুলডোজার অ্যাকশন, এবার আসানসোলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো তৃণমূলের পার্টি অফিস!

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল এবং নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে তীব্র উচ্ছেদ অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় আসানসোলের বার্নপুর এলাকায় স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (SAIL)-এর জমি দখল করে গড়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) আরও একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার বার্নপুর রেলস্টেশনের কাছে অবস্থিত তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক রুদ্রের এই কার্যালয়টি ভাঙার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলির মধ্যে বার্নপুর এলাকায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা এটি চতুর্থ তৃণমূল কার্যালয়।
উচ্ছেদের কারণ ও রাজনৈতিক তরজা
SAIL এবং ইসকো (IISCO) কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি সম্পূর্ণভাবে তাদের মালিকানাধীন এবং সেখানে বেআইনিভাবে এই রাজনৈতিক কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল। জায়গাটি খালি করার জন্য এর আগে একাধিকবার নোটিশ জারি করা হলেও তা অমান্য করা হয়। ফলস্বরূপ, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এই বুলডোজার অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। এর আগে গত মঙ্গলবারও বার্নপুরের ত্রিবেণী মোড়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের একটি অবৈধ কার্যালয় একইভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল।
এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ‘টার্গেট পলিটিক্স’ বা বেছে বেছে বিরোধী দলকে নিশানা করার অভিযোগ তুলেছে। এমনকি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনার বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে বুলডোজার কখনও প্রশাসনের ভাষা হতে পারে না।
প্রশাসনের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে SAIL কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মূলত আটকে থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাওড়ায় বহুতল ভাঙা থেকে শুরু করে আসানসোলে দলীয় কার্যালয় উচ্ছেদ—রাজ্যের এই ধারাবাহিক বুলডোজার অ্যাকশন আগামী দিনে অবৈধ দখলদারদের ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এই উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। SAIL কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি জমি থেকে সমস্ত ধরণের অবৈধ দখল উচ্ছেদের এই কড়া অভিযান আগামী দিনগুলিতেও অব্যাহত থাকবে।