দ্বারভাঙা বিমানবন্দরের সুরক্ষায় এবার সিআইএসএফ, জোরদার হল উত্তর বিহারের আকাশ নিরাপত্তা

উত্তর বিহারের সীমান্ত ঘেঁষা দ্বারভাঙা বিমানবন্দরে এবার বসানো হল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রহরা। দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর এবং দ্রুত বর্ধনশীল দ্বারভাঙা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার দায়িত্বভার আনুষ্ঠানিক ভাবে বুঝে নিল সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)। গত ১৪ মে বিমানবন্দর চত্বরে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই অন্তর্ভুক্তির ফলে পাটনা ও গয়ার পর বিহারের তৃতীয় এবং দেশের ৭২তম বিমানবন্দর হিসেবে দ্বারভাঙা চলে এল সিআইএসএফ-এর কড়া নজরদারিতে, যা ভারতের বিমান পরিবহন ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
কৌশলগত গুরুত্ব ও নিরাপত্তার কারণ
ভারত-নেপাল সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই বিমানবন্দরটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ৭২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি ড্রোন, চোরাচালান চক্র এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধমূলক কার্যকলাপের মতো আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটির ভেতরে এই সিভিল এনক্লেভটি অবস্থিত হওয়ায় এর সুরক্ষায় উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনীর প্রয়োজন ছিল। সেই অভাব পূরণ করতেই এখন থেকে ১৪৫ জন সিআইএসএফ জওয়ানের একটি দক্ষ দল ২৪ ঘণ্টা এখানে মোতায়েন থাকবে।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, দ্বারভাঙার সাংসদ গোপাল জি ঠাকুর, রাজ্যের মুখ্য সচিব প্রত্যয় অমৃত, সিআইএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীর রঞ্জন এবং বিহার পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল বিনয় কুমারসহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের এবং রাজ্যের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনরকম আপস করা হবে না। স্পর্শকাতর মিথিলা অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য এই বাহিনী এক অভেদ্য বর্ম হিসেবে কাজ করবে।
উড়ান প্রকল্পের সাফল্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
কেন্দ্র সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পের অধীনে দ্বারভাঙা বিমানবন্দরটি যাত্রী সংখ্যার নিরিখে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ যাত্রী ও পরিকাঠামোর সুরক্ষায় সিআইএসএফ এখন থেকে বহুমুখী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে। অত্যাধুনিক যাত্রী ও ব্যাগ স্ক্যানিং, কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), বোমা নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড এবং বিস্ফোরক চিহ্নিতকরণে দক্ষ ‘কে-৯’ ডগ স্কোয়াডের মতো বিশেষ ইউনিট এখানে কাজ শুরু করেছে।
সিআইএসএফ প্রধান আশ্বস্ত করেছেন, যাত্রীবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখেই বিশ্বমানের পেশাদারিত্বের সাথে এই জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা হবে। বিহারের শিল্প ও বিমান ক্ষেত্র মিলিয়ে বর্তমানে ১১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তার চাবিকাঠি এখন এই বাহিনীর হাতে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আকাশ নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করে তুলবে।