‘নন্দীগ্রামের ঋণ শোধ করব, ভরসা রাখুন’, খাসতালুকে আবেগঘন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

‘নন্দীগ্রামের ঋণ শোধ করব, ভরসা রাখুন’, খাসতালুকে আবেগঘন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

নন্দীগ্রামের গণদেবতার ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

সংবিধানের নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিলেও সেখানকার মানুষের পাশে আজীবন থাকার অঙ্গীকার করলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় আসন থেকেই বিজয়ী হওয়ার পর, নিয়মানুযায়ী নন্দীগ্রাম আসনটি ত্যাগ করে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ বহাল রেখেছেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের পর নন্দীগ্রামের কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে রবিবার সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী। সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতায় কোনো বদল আসবে না।

ঋণ স্বীকার ও আজীবন পাশে থাকার বার্তা

২০০৩ সালের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ২০০৬ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে, এই অঞ্চলের মানুষ তাঁকে ২০২১ সালে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন এবং ২০২৬ সালেও ভরসা রেখেছেন। সেই জেতানোর ঋণ তিনি কাজের মাধ্যমে শোধ করবেন। নন্দীগ্রামে বিজেপি আজ বীজ থেকে বটবৃক্ষে পরিণত হয়ে তৃণমূলকে মূলসমেত উপড়ে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ঝড়-বৃষ্টি বা যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও প্রয়োজনে তাঁর পার্টি অফিস থেকে আগের মতোই সমস্ত পরিষেবা ও সাহায্য পাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উন্নয়ন থমকে থাকার অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই এখানকার রেল ও পানীয় জলসহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প আটকে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, একুশে নন্দীগ্রামের মানুষ মমতাকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছিলেন, আর এবার ভবানীপুরে খোদ তাঁর ঘরে গিয়ে তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে। ৩৫ বছরের বাম আমল এবং ১৫ বছরের তৃণমূলের শোষণে বিপর্যস্ত রাজ্যকে পুনরুদ্ধার করার বার্তা দিয়ে তিনি জানান, নন্দীগ্রামের জন্য দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে। পাশাপাশি, দলের কর্মীদের আইন নিজের হাতে না নেওয়ার এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দেন তিনি।

এক ঝলকে

  • ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দুই আসনে জয়ের পর সাংবিধানিক নিয়মে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকার এবং বিগত দিনে জেতানোর ঋণ কাজের মাধ্যমে শোধ করার জোরালো আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামের রেল ও পানীয় জলের প্রকল্প প্রতিহিংসামূলকভাবে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে সমস্ত থমকে থাকা কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
  • এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *