জম্মু-কাশ্মীরে নষ্ট হচ্ছে ১৫০০ কোটির আপেল, নীতি আয়োগের রিপোর্টে হাহাকার!

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির যুগেও পরিকাঠামো ও সচেতনতার অভাবে জম্মু-কাশ্মীরের ফল চাষে এক ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে এনেছে নীতি আয়োগ (NITI Aayog)। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সঠিক হিমাগার, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং সচেতনতার অভাবে উপত্যকায় প্রতি বছর প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার আপেল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির কারণে জম্মু-কাশ্মীরের ফল চাষী ও সামগ্রিক উদ্যানপালন (Horticulture) ক্ষেত্র গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।
টন টন আপেল ও চেরি নষ্টের খতিয়ান
নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর জম্মু-কাশ্মীরে উৎপাদিত আপেলের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ মেট্রিক টন আপেল বাজারজাত করার আগেই পচে বা নষ্ট হয়ে যায়। শুধু আপেলই নয়, সঠিক ও দ্রুতগামী সাপ্লাই চেইনের (Supply Chain) অভাবে উপত্যকার অত্যন্ত সংবেদনশীল ফল চেরির ক্ষেত্রেও এই ক্ষতির পরিমাণ মারাত্মক। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৪০ থেকে ৪৯ শতাংশ উৎপাদিত চেরি ফল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পারায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ত্রুটিপূর্ণ পরিকাঠামো ও বিপণন ব্যবস্থার মাশুল
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল চাষের একেবারে প্রথম ধাপ থেকে শুরু করে পরিবহন ও বাজারজাতকরণ— প্রতিটি স্তরেই ত্রুটি রয়ে গেছে। নীতি আয়োগের রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে:
- চাষের ক্ষেত্রে আধুনিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতার অভাব এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মার।
- কোল্ড স্টোরেজ বা হিমায়িত সংরক্ষণাগারের তীব্র সংকট, যার ফলে ফল দীর্ঘদিন তাজা রাখা যাচ্ছে না।
- ত্রুটিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিপণনের সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামো না থাকায় মোট উৎপাদিত ফলের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ লোকসানের খাতায় চলে যাচ্ছে।
ক্ষতি রুখতে নীতি আয়োগের আধুনিক রূপরেখা
উপত্যকার এই বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি রুখতে এবং চাষীদের বাঁচাতে নীতি আয়োগ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণের কড়া প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ফল সংগ্রহের পর দ্রুত তা সংরক্ষণের জন্য ব্লক স্তরে আধুনিক কোল্ড চেইন গড়ে তোলা, দ্রুত পরিবহনের জন্য লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সরাসরি ফল বিপণন বা বাজারজাতকরণের জন্য ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
এক ঝলকে
- জম্মু-কাশ্মীরে পরিকাঠামো ও সচেতনতার অভাবে প্রতি বছর প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার ৫ লক্ষ মেট্রিক টন আপেল নষ্ট হচ্ছে।
- নীতি আয়োগের রিপোর্টে প্রকাশ, ত্রুটিপূর্ণ সাপ্লাই চেইনের কারণে উপত্যকার ৪০-৪৯% চেরি ফলও বাজারে পৌঁছানোর আগে পচে যায়।
- চাষ, পরিবহন ও দুর্বল বিপণন ব্যবস্থার সম্মিলিত ত্রুটিতে কাশ্মীরে সামগ্রিকভাবে ৩৫-৪০% ফল চাষেই লোকসান হচ্ছে।
- এই অপচয় রুখতে সংরক্ষণাগার বৃদ্ধি, কোল্ড চেইন লজিস্টিকস এবং বিপণনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে নীতি আয়োগ।