“সব প্রকল্পই অন্ধকারে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের চক্রান্ত করছে বিজেপি!”— বিস্ফোরক মমতা

জনমুখী প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা! বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মমতা
পশ্চিমবঙ্গের একগুচ্ছ জনমুখী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গত তিন দফায় তাঁর সরকার রাজ্যের মানুষের জন্য ৯১টি জনমুখী প্রকল্প চালু করেছিল, যা বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে এখন ঘোর অন্ধকারের দিকে এগিয়ে চলেছে। নতুন সরকার এই প্রকল্পগুলোকে একে একে জলাঞ্জলি দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, চলতি মে মাসে বাংলার কোটি কোটি মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ভুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং এই ভাতা স্থায়ী হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
সরকারি কর্মচারী ও উচ্ছেদ নীতি নিয়ে তোপ
প্রকল্পের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং সপ্তম পে কমিশন নিয়েও বর্তমান শাসক শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, পয়লা এপ্রিল থেকে ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার এখনও কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। এমনকি, সপ্তম পে কমিশন পূর্বতন সরকারের বাজেট ও ক্যাবিনেটে অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি তা নিজেদের কাজ বলে চালাচ্ছে। এর বাইরেও রাজ্য জুড়ে হকার উচ্ছেদ, রেশন ও মিড ডে মিল বন্ধের চক্রান্ত এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ফিফা স্বীকৃত ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো ভেঙে ফেলার মতো ঘটনাকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
কারণ ও দূরগামী প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার হাতবদলের পর পূর্বতন সরকারের নীতি ও বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতই এই রাজনৈতিক বাদানুবাদের মূল কারণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সুর চড়ানোর ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ বা রেশনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে সাধারণ মানুষের পরিষেবা বিঘ্নিত হলে তা সামাজিক স্তরে ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে এবং নতুন সরকারের ওপর প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এক ঝলকে
- গত সরকারের চালু করা ৯১টি জনমুখী প্রকল্প নতুন বিজেপি সরকারের আমলে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- চলতি মে মাসে কোটি কোটি মহিলার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ না পাওয়া এবং সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়ে বর্তমান সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ।
- পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ এবং যুবভারতীর ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো ভেঙে ফেলার ঘটনাকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে কটাক্ষ।
- পুরোহিত-ইমামদের ভাতা বন্ধ ও বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনা করে সব ধর্মের অধিকার রক্ষার আহ্বান।