ফর্ম পূরণের হিড়িক আর সাইবার ক্যাফেতে লম্বা লাইন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঘিরে রাজ্যে তুঙ্গে বিভ্রান্তি!

রাজ্যে নতুনভাবে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন মহিলারা, যেখানে প্রতি মাসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পটির সুবিধা পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে গ্রাহকদের মধ্যে এক বড় ধরনের ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাইবার ক্যাফে থেকে শুরু করে জেলা শাসক (ডিএম) দফতরে মহিলাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভিড়ের কারণ ও অমূলক বিভ্রান্তি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকেই ভাবছেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই আশঙ্কায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগী হওয়া সত্ত্বেও অসংখ্য মহিলা ডিএম অফিসে গিয়ে নতুন করে ফর্ম তোলার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক করানোর জন্য সাইবার ক্যাফেগুলোতেও লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও আবার নতুন পোর্টালে আবেদনের জন্য আগাম হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। মূলত সঠিক তথ্যের অভাব এবং গুজবের কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
প্রকৃত নিয়ম ও সরকারের স্পষ্ট বার্তা
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাওয়ার জন্য পুরনো গ্রাহকদের নতুন করে কোনো ফর্ম পূরণ করতে হবে না। যাঁরা আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন। গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়াও করতে হবে না, যা করার তা সরকার নিজেই করছে। শুধু নিশ্চিত করতে হবে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত তথা ডিবিটি লিঙ্ক সক্রিয় রয়েছে কি না। এর জন্য সাইবার ক্যাফে বা সরকারি দফতরে লাইনে দাঁড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
নতুন আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়া
যাঁরা একদম নতুনভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে চান, তাঁদের জন্য সরকার শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল চালু করতে চলেছে। তবে এখনই সেই পোর্টাল চালু না হওয়ায় অনেকেই ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পোর্টাল চালু হওয়ার পর নতুনরা সেখানে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই টাকা মিলবে না; যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষে এবং রাজ্য বাজেটের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে আবেদন করার অন্তত দুই থেকে তিন মাস পর নতুন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হবে।