হানিমুন কাটতেই সংসারে অশান্তি, বেডরুমের এই বাস্তু ভুল ভাঙছে না তো সম্পর্ক

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের মিলন নয়, এটি জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কিন্তু বর্তমানের চরম ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই অনেক দম্পতির সংসারে অশান্তি শুরু হয়। অনেক সময় পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, বিষয়টি বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও বোঝাপড়া ঠিক থাকার পরেও অনেক সময় শোওয়ার ঘরের কিছু মারাত্মক বাস্তু ত্রুটির কারণে সম্পর্কে ফাটল ধরে। তবে সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
শোওয়ার ঘরের সঠিক দিক ও খাটের নির্বাচন
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, নতুন দম্পতিদের শোওয়ার ঘর সবসময় বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে হওয়া অত্যন্ত শুভ। এই দিকটি দাম্পত্য জীবনে প্রেম ও শারীরিক আকর্ষণ বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঘরের দিক নির্বাচনের পাশাপাশি ঘুমনোর সময় মাথার দিক ঠিক রাখাও জরুরি। ভুলেও স্বামী-স্ত্রী দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে মাথা রেখে ঘুমোবেন না।
আজকাল অনেকেই ঘরে লোহা বা অন্য কোনও ধাতুর তৈরি আধুনিক খাট ব্যবহার করেন। তবে বাস্তু মতে, সদ্য বিবাহিতদের বিছানা বা খাট কোনও ধাতুর হওয়া উচিত নয়, এতে সম্পর্কে অশান্তি এবং অর্থহানির আশঙ্কা থাকে। এর বদলে বর্গাকার কাঠের বিছানা ব্যবহার করা শ্রেয়, যা জীবনে সুখ ও আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি নিয়ে আসে। এছাড়া খাটের ওপর কোনও উপহারের বাক্স বা বাসনপত্র জমিয়ে রাখা একেবারেই উচিত নয়।
দেওয়ালের রং ও মানসিকতার প্রভাব
নতুন দম্পতিদের ঘরের দেওয়ালে গাঢ় নীল বা কালোর মতো অন্ধকার শেড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এই রংগুলি ঘরে নেতিবাচক শক্তি তৈরি করে এবং অকারণ ঝগড়ার জন্ম দেয়। এর পরিবর্তে দেওয়ালে সবসময় হালকা ও স্নিগ্ধ রং ব্যবহার করা ভালো।
তবে বাস্তু সমাধানের পাশাপাশি সম্পর্কের মধুরতা ধরে রাখতে নিজেদের স্বভাবের পরিবর্তন করাও জরুরি। সংসারে সুখ বজায় রাখতে হলে কথায় কথায় মাথা গরম করা বা অকারণ তর্ক বন্ধ করতে হবে। নিজেদের ইগো সরিয়ে রেখে একে অপরকে বুঝতে পারলে এবং বাস্তুর নিয়ম মেনে চললে দাম্পত্য জীবন সুখের ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।