আইন শৃঙ্খলায় নতুন বার্তা, হাওড়ায় কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে ন্যাড়া মাথায় অন্তর্বাস পরিয়ে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ

আইন শৃঙ্খলায় নতুন বার্তা, হাওড়ায় কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে ন্যাড়া মাথায় অন্তর্বাস পরিয়ে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ

উত্তর হাওড়ার রাজপথে রবিবার দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। মাথা ন্যাড়া, পরনে শুধুমাত্র গেঞ্জি ও অন্তর্বাস— এই অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখে থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। পুলিশ পরিবেষ্টিত ওই ব্যক্তি আর কেউ নন, এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবে পরিচিত আকাশ সিং। ২০২১ সালে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং একাধিক বোমা বাজির ঘটনায় অভিযুক্ত এই দুষ্কৃতীকে এভাবেই জনসমক্ষে রাস্তায় হাঁটিয়েছে হাওড়া পুলিশ। মূলত অপরাধের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতেই তাকে এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

কঠোর পদক্ষেপের নেপথ্য কারণ

আকাশ সিং উত্তর হাওড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। ২০২১ সালে পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলি চালনা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অন্তত ২০টিরও বেশি বোমা বাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজে অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করা এবং সমস্ত দুষ্কৃতীর প্রতি একটি কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে এভাবে জনসমক্ষে নিয়ে আসা হয়। পূর্বের অপরাধের স্থানগুলোতে ঘটনার বিবরণ মিলিয়ে দেখতেই এই পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বার্তা ও প্রশাসনিক প্রভাব

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকার ক্ষেত্রে এক বড়সড় বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, পুলিশের ওপর কোনো ধরনের হামলা বরদাস্ত করা হবে না। সম্প্রতি পার্ক সার্কাসের এক সভায় তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, পুলিশ আক্রান্ত হবে আর পুলিশমন্ত্রী এসি ঘরে বসে থাকবে, তেমনটা ঘটবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই হাওড়া পুলিশের এই ‘দাবাং’ রূপ সামনে এলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে এবং বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যও পুলিশের এই পদক্ষেপের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের এই চরম পদক্ষেপ একদিকে যেমন অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর মনোভাব প্রকাশ করছে, অন্যদিকে তা আইনগত ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আগামী দিনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে অপরাধের বিরুদ্ধে এটি একটি তীব্র মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *