রেশন দোকানেই মিলবে সস্তার গ্রোসারি ও এলপিজি সিলিন্ডার, রেশন ব্যবস্থাকে বদলে দিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বড় প্রস্তাব

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পরেই রাজ্যের রেশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। রেশন পরিষেবাকে আরও আধুনিক এবং জনমুখী করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে রেশন ডিলারদের সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশন’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকে বসারও আর্জি জানিয়েছেন। ডিলারদের দাবি, পূর্বতন সরকারের অনিচ্ছার কারণে যেসকল কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে বন্ধ ছিল, সেগুলি এবার দ্রুত চালু করা হোক।
কী কী বদল আসছে রেশন ব্যবস্থায়
মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে রেশন ডিলাররা বেশ কিছু আধুনিক ও বিকল্প প্রকল্পের অনুমোদন চেয়েছেন, যা দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে ইতিমধ্যেই সফলভাবে চলছে। এই প্রস্তাবগুলির মধ্যে অন্যতম হলো রেশন দোকান থেকে সাধারণ চাল এবং গমের পাশাপাশি বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে তেল, ডাল, নুন ও মশলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্রোসারি সামগ্রী বিতরণ করা।
এছাড়া, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সুবিধার্থে রেশন দোকানগুলিতে মিনি ব্যাঙ্কিং কাউন্টার বা ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্ট ব্যাঙ্কের ডিজিটাল পরিষেবা চালু করার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রেশন দোকান থেকে ৫ কেজির ছোট এলপিজি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং তা রিফিল করার সুবিধা দেওয়ারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই সমস্ত ডিজিটাল পরিষেবা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ডিলারদের কেন্দ্রীয় সরকারের খরচে বিশেষ প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রেশন ডিলারদের মতে, এই প্রকল্পগুলি চালু হলে সাধারণ মানুষ একই ছাদের তলায় অত্যন্ত সস্তায় চাল-গমের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও রান্নার গ্যাস পেয়ে যাবেন। গ্রামীণ এলাকায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছানোর ফলে আর্থিক লেনদেন আরও সহজ হবে। ডিলারদের আশা, বর্তমান মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল দীর্ঘদিন খাদ্য দফতরের দায়িত্বে থাকায় তিনি এই ব্যবস্থার খুঁটিনাটি ভালোভাবেই জানেন। ফলে নতুন সরকারের সদিচ্ছায় এই আধুনিক মডেল রাজ্যে চালু হলে রেশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।