তৃণমূলের ভরাডুবিতে ফলতায় বামেদের বড় উত্থান, বাংলার রাজনীতিতে কি এবার উলটপুরাণ!

তৃণমূলের ভরাডুবিতে ফলতায় বামেদের বড় উত্থান, বাংলার রাজনীতিতে কি এবার উলটপুরাণ!

ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। ভোট গণনার শেষে দেখা যাচ্ছে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে চতুর্থ স্থানে ঠেলে দিয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উত্থান ঘটেছে বামেদের। নির্বাচনের প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রথম স্থান ধরে রাখলেও, আসনটির মোট ২৮৫টি বুথের মধ্যে ৫৮টি বুথে বিজেপি-কে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নিয়েছে সিপিআইএম। লোকসভা নির্বাচনে যে ফলতা থেকে তৃণমূল রেকর্ড লিড পেয়েছিল, সেখানে এই অভাবনীয় পরিবর্তন রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণের এক নতুন দিকনির্দেশ করছে।

সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ ও তৃণমূলের ধস

ফলতার এই নির্বাচনী ফলাফলের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে সংখ্যালঘু তথা মুসলিম ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন। এই আসনে প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে, যা এতদিন শাসকদল তৃণমূলের একচেটিয়া ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এবার তৃণমূলের দীর্ঘদিনের চেনা সংগঠন এবং ভোট পরিচালনার চাবিকাঠি আলগা হতেই সেই ভোটের বড় অংশ বামেদের ঝুলিতে গিয়েছে। অন্যদিকে, বিগত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের হিংসা না হওয়া এবং সাধারণ মানুষের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারাও বামেদের ভোট বাড়াতে সাহায্য করেছে। অনগ্রসর শ্রেণির বাম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মীর পক্ষে যাওয়া এই ভোটই মূলত বিজেপি-র বিরুদ্ধে বিকল্প হিসেবে বামেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

চূড়ান্ত ফলাফলে বিজেপি ১,৪৯,৬৬৬ ভোট (৭১.২%) পেয়ে জয়ী হলেও, দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিআইএম পেয়েছে ৪০,৬৪৫ ভোট (১৯.৩%)। বিপরীতে, কংগ্রেস ১০,০৮৪ ভোট (৪.৮%) পেয়ে তৃতীয় এবং ক্ষমতাশীন তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৭,৭৮৩ ভোট (৩.৭%) পেয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফলের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। এতদিন রাজ্যে বিজেপি বনাম তৃণমূলের যে দ্বিমেুখী লড়াইয়ের আবহ ছিল, তা ভেঙে এবার বামেরা নিজেদের মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরার রসদ পেয়ে গেল। শাসকদলের এই অভূতপূর্ব ভোটক্ষয় প্রমাণ করছে যে, নিচু স্তরে তৃণমূলের জনভিত্তি দ্রুত কমছে। ফলতার এই ‘নয়া ব্যাকরণ’ আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও বাম-বিরোধী জোট বা এককভাবে বামেদের শক্তি পুনরুদ্ধারের পথকে আরও প্রশস্ত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *