অমিত শাহের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ! ডায়েরি নিতে নারাজ বিধাননগর সাইবার থানা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা নিয়ে নতুন শোরগোল শুরু হলো। নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন অমিত শাহের দেওয়া কিছু বক্তব্য ‘উস্কানিমূলক’ ও ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারী’ ছিল—এই দাবি তুলে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন মানস সেনচৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। তবে তাঁর গুরুতর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বা ডায়েরি গ্রহণ করতে চাইছে না সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।
কী অভিযোগ মানস সেনচৌধুরীর?
অভিযোগকারী মানস সেনচৌধুরীর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিভিন্ন জনসভা ও মাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা অত্যন্ত উস্কানিমূলক, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনকারী এবং সমাজ জুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরণের বক্তব্য ডিজিটাল মাধ্যম ও সাইবার স্পেসে ছড়িয়ে পড়ার জেরে সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই সমস্ত ভিডিও এবং বক্তব্যের সত্যতা ও উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েই তিনি বিধাননগর সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিতে যান।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ও রাজনৈতিক জল্পনা
মানস বাবুর অভিযোগ, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো রকম অভিযোগ বা এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করতে সরাসরি অস্বীকার করেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নির্বাচনী মহলে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম জড়ানোয় আইনি জটিলতা এড়াতে পুলিশ পিছুটান দিচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পেছনে কোনো আইনগত ত্রুটি বা পদ্ধতিগত খামতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে এই বিষয়ে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের বা সাইবার থানার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অফিশিয়াল কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এক ঝলকে
- নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে বাধা পাওয়ার দাবি এক ব্যক্তির।
- বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা এই সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মানস সেনচৌধুরী।
- অভিযোগকারীর মতে, শাহের নির্বাচনী বক্তব্যগুলি ছিল উস্কানিমূলক, ভীতি প্রদর্শনকারী এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টায় ভরা।
- এই হাই-প্রোফাইল অভিযোগ গ্রহণ না করা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।