ইরানে মার্কিন এয়ার স্ট্রাইক! মিসাইল কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আমেরিকার দাবি ‘আত্মরক্ষা’

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ আরও ঘনীভূত করে ইরানের ভূখণ্ডে ও জলসীমায় ভয়াবহ সামরিক হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে (Missile Launch Sites) একযোগে বিধ্বংসী বিমান হামলা বা এয়ার স্ট্রাইক চালাল আমেরিকার যুদ্ধবিমান। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে ইরানের এলিট বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর যুদ্ধজাহাজ ও স্পিডবোট লক্ষ্য করেও জোরালো আক্রমণ চালিয়েছে মার্কিন ফৌজ। এই পৈশাচিক হামলার পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “গোটাটাই করা হয়েছে সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার স্বার্থে।”
বন্দর আব্বাসে রহস্যময় বিস্ফোরণ ও যুদ্ধের সূচনা
উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটেছিল সোমবার সকালেই। ইরানের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী ‘বন্দর আব্বাস’ (Bandar Abbas)-এ একের পর এক ভয়াবহ ও রহস্যময় বিস্ফোরণ ঘটতে শুরু করে। সেই সময় থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহ জোরালো হচ্ছিল যে, তবে কি পশ্চিম এশিয়ায় নতুন কোনো যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল? বন্দর আব্বাসের ওই বিস্ফোরণগুলির প্রকৃত কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পর্যন্ত ইরান খোলসা না করলেও, তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ওপর সরাসরি এই সাঁড়াশি আক্রমণ নামিয়ে আনে মার্কিন সেনা।
ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস ও বোট লক্ষ্য করে হামলা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলি দক্ষিণ ইরানের একাধিক স্পর্শকাতর সামরিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করে। মূলত যে সমস্ত কেন্দ্র থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হতো, নিখুঁত নিশানা করে সেগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্রে মার্কিন নৌবহরের ওপর যেকোনো ধরণের সম্ভাব্য ড্রোন বা মিসাইল হামলা রুখতে আইআরজিসি (IRGC)-এর সশস্ত্র বোটগুলির ওপর মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ভারী শেলিং করা হয়।
আমেরিকার ‘আত্মরক্ষা’র তত্ত্ব ও বিশ্ব বাজারে উদ্বেগ
এই হাই-প্রোফাইল সামরিক অভিযানের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (Pentagon) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সেনা ও তাদের সহযোগী দেশগুলির ওপর বড়সড় হামলার ছক কষা হচ্ছিল। সেই আসন্ন বিপদ রুখতেই এই আগাম প্রতিরোধমূলক (Pre-emptive) হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষা’। তবে আমেরিকার এই আকস্মিক এয়ার স্ট্রাইকের পর হরমুজ প্রণালী সহ গোটা পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড়সড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- সোমবার রাতে দক্ষিণ ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে বিধ্বংসী এয়ার স্ট্রাইক চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- পারস্য উপসাগরে ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর সামরিক বোটগুলির ওপরেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।
- ইরানের অন্যতম প্রধান বন্দর আব্বাসে একাধিক রহস্যময় বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই মার্কিন হামলা।
- মার্কিন প্রশাসনের দাবি, কোনো আগ্রাসন নয়, বরং আসন্ন বিপদ এড়াতে ‘আত্মরক্ষার স্বার্থে’ এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
- এই জোড়া হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সুরক্ষায় বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।