রোম সম্রাটের উদাহরণ দিয়ে সুখেন্দুশেখরের বেসুরো পোস্ট, তুঙ্গে দলত্যাগের জল্পনা

বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার শাসকশিবিরে ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল। দলের বিপর্যয় এবং নীচুতলার নেতাদের একের পর এক গ্রেপ্তারি নিয়ে যখন ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক পোস্ট করে জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পরোক্ষভাবে রাজ্যে ‘অসহনীয় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি’র কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বর্ষীয়ান এই সাংসদের এমন মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলেছে।
সিজারের প্রসঙ্গ ও বাংলার রাজনীতি
নিজের পোস্টে সুখেন্দুশেখর রায় খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালের মার্চ মাসের ১৫ তারিখ অর্থাৎ ‘আইডস’-এর দিনে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের সেনেটের ভেতরে ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাটি স্মরণ করিয়েছেন। মে মাসের ১৫ তারিখের উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, মে মাসের ‘আইডস’ আসার আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, জনগণের রায়ে বাংলায় যে পরিবর্তন এসেছে, তাকেই কার্যত স্বাগত জানিয়েছেন সাংসদ। একই সঙ্গে নিজের দলের শাসনকালকে বকলমে ‘অসহনীয় নৈরাজ্য’ বলে সিলমোহর দিয়েছেন তিনি, যা তাঁর দলত্যাগের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দলের একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নেতৃত্বের রোষের মুখে পড়েছেন, কাউকে কাউকে সাসপেন্ডও হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুখেন্দুশেখরের মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও প্রবীণ নেতার ‘বেসুরো’ অবস্থান দলের নীচুতলার কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির ‘অপারেশন পদ্ম’-এর জল্পনার মাঝেই এই ধরণের পোস্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ও শীর্ষ নেতা এখন দল ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে ঘাসফুল শিবিরের অস্তিত্বকে আরও বড় সংকটের মুখে দাঁড় করাবে।