শেয়ারবাজারে অস্থিরতার মাঝেই বাম্পার আয়ের সুযোগ, বেশ কিছু স্টকে মিলবে ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন

শেয়ারবাজারে অস্থিরতার মাঝেই বাম্পার আয়ের সুযোগ, বেশ কিছু স্টকে মিলবে ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন

টানা ওঠানামার জেরে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করলেও, বেশ কিছু নির্দিষ্ট স্টক আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের বাম্পার রিটার্ন দিতে পারে। বাজারের এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ডোমেস্টিক ব্রোকারেজ ফার্ম চয়েস ইনস্টিটিউশনাল ইকুয়েটিজ মূলত নেক্সট জেনারেশন টেক সংস্থাগুলির উপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সেক্টরের আর্থিক ও অপারেশনাল ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং বেশ কিছু স্টকের পারফরম্যান্স আগামী দিনে নজরকাড়া হতে চলেছে।

প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বড় আয়ের ইঙ্গিত

ব্রোকারেজ ফার্মের দাবি, নেক্সট জেনারেশন টেক কো ম্পা নিগুলি বর্তমানে ব্যবসায়িক দিক থেকে বেশ মজবুত অবস্থানে রয়েছে। এই তালিকায় অন্যতম আকর্ষণীয় স্টক হিসেবে উঠে এসেছে ইন্টেলেক্ট ডিজাইন এরেনা লিমিটেড। বর্তমানে এই শেয়ারটির বাজারমূল্য ৭১৭.৯০ টাকা হলেও, ব্রোকারেজ ফার্মটির দাবি এটি প্রায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫০ টাকার টার্গেট প্রাইসে পৌঁছাতে পারে। বিগত ৩ বছর ধরে পরিকাঠামো উন্নয়নের পর এখন নিজস্ব এআই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এই সংস্থার আয় বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি নাজারা টেকনোলজি লিমিটেডকেও ‘বাই’ রেটিং দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা। টেক সেক্টরের অন্যান্য শেয়ার যেমন অরিওনপ্রো সলিউশন লিমিটেড (টার্গেট ১২৫০ টাকা), ওরাকেল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড সফটওয়্যার (টার্গেট ১০,৮৯০ টাকা) এবং ফ্র্যাক্টাল অ্যানালিটিক্স লিমিটেডের (টার্গেট ১২৫০ টাকা) উপরও ইতিবাচক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অ্যাড রেটিংয়ের তালিকায় একাধিক ই-কমার্স ও গ্লোবাল সার্ভিস

চয়েস ইনস্টিটিউশনাল ইকুয়েটিজ বেশ কিছু শেয়ারকে ‘অ্যাড’ রেটিংয়ের আওতায় রেখেছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম মিশো-র শেয়ারের টার্গেট প্রাইস রাখা হয়েছে ২১০ টাকা। এছাড়া ইন্ডিয়ামার্ট ইন্টারমেশ লিমিটেড এবং ডামাম্যাটিক্স গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেডকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলির সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ২৩৪০ টাকা এবং ৯২০ টাকা।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে ভারতের শেয়ারবাজার বর্তমানে অনেকটাই ফ্ল্যাট বা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই ধরনের বৈশ্বিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে ঢালাও বিনিয়োগের চেয়ে সুনির্দিষ্ট ও টেকনোলজিক্যালি উন্নত স্টক বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ব্রোকারেজ ফার্মের এই ইতিবাচক রেটিং এবং এআই প্রযুক্তিতে টেক সংস্থাগুলির বিপুল বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে আইটি ও টেক সেক্টরে নতুন জোয়ার আনতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে ঝুঁকি এড়াতে যে কোনো স্টকে বিনিয়োগের পূর্বে নিজস্ব গবেষণা ও সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *