হাইটেক সুরক্ষায় ভারতীয় রেল, ট্র্যাকে ড্রোন আর স্টেশনে নজর রাখবে এআই

হাইটেক সুরক্ষায় ভারতীয় রেল, ট্র্যাকে ড্রোন আর স্টেশনে নজর রাখবে এআই

যাত্রী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং রেলের সম্পত্তি রক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পথে হাঁটছে ভারতীয় রেল। স্টেশন চত্বর থেকে শুরু করে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত রেললাইন—সমগ্র নেটওয়ার্ককে এক সুতোয় বেঁধে একটি অত্যাধুনিক, প্রযুক্তি-চালিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেল চত্বরে অসামাজিক কার্যকলাপ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি নতুন দিল্লির রেল ভবনে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে দেশব্যাপী এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রেলওয়ে জোনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে মূলত এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) নজরদারি, ড্রোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার পরিধি বাড়িয়ে রেলের সার্বিক পরিকাঠামোকে সুরক্ষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রযুক্তির ঢাল ও সমন্বিত নজরদারি

রেল আধিকারিকদের সূত্রানুসারে, সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করতে স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। একই সাথে দুর্গম ও স্পর্শকাতর রেললাইনগুলোর সুরক্ষায় নিয়মিত রিয়েল-টাইম নজরদারি চালাবে ড্রোন। সাম্প্রতিক কিছু রেল দুর্ঘটনার তদন্তে অসামাজিক বা নাশকতামূলক কার্যকলাপের যোগসূত্র মেলার পর থেকেই এই প্রতিরোধমূলক গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল পরিকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে শারীরিক নজরদারির পাশাপাশি শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সাথে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) এবং সরকারি রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ডেটা বা তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

যাত্রীদের সচেতনতা ও হেল্পলাইনের ভূমিকা

রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিশাল নিরাপত্তা যজ্ঞে যাত্রীদের সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণের সময় স্টেশনে বা ট্রেনের কামরায় কোনো পরিত্যক্ত ব্যাগ, সন্দেহজনক আচরণ কিংবা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ নজরে এলে যাত্রীদের অবিলম্বে রেলের সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রযুক্তি ও জনসচেতনতার মেলবন্ধনে রেলের এই বৃহৎ নিরাপত্তা উন্নয়ন পরিকল্পনা আগামী দিনে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হতে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *