টলিউডে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’এর দাপট, কাজ হারিয়ে অটোচালক ও মাছ বিক্রেতা বহু সহকারী পরিচালক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই টলিপাড়ার অন্দরে চরম ডামাডোল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইমপা (EIMPA) থেকে শুরু করে ফেডারেশন, প্রতিটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির এই অস্থিরতার মাঝেই এবার তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ল সহকারী পরিচালকদের গিল্ড (অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর্স গিল্ড)। সম্প্রতি টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কাজহারা টেকনিশিয়ানরা।
অনিয়ম ও স্বজন-পোষণের অভিযোগ
বিক্ষোভকারী সহকারী পরিচালকদের মূল অভিযোগ ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এবং গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক অমিত কুমার সামন্ত ওরফে পাপ্পুর বিরুদ্ধে। গিল্ডের সদস্য সন্দীপ দত্তের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ায় তীব্র স্বজন-পোষণ ও অনিয়ম চলছে। যুগ্ম সম্পাদক পাপ্পু নিজের পরিচিত বৃত্তের বাইরে কাউকে কাজ দেন না। ফলে একদিকে যেখানে সাধারণ মেম্বাররা বছরের পর বছর কাজ পাচ্ছেন না, সেখানে প্রভাবশালী কয়েকজন মাসে একাধিক কাজ করে চলেছেন। গত বছর ৩১শে ডিসেম্বর ফেডারেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কীভাবে স্বরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ডের নির্বাচন হলো, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি গিল্ডের নিয়মানুযায়ী তিনটি ছবিতে কাজের প্রমাণ ছাড়াই স্বরূপ বিশ্বাস কীভাবে এই পদে রয়েছেন, সেই যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সদস্যরা।
অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন টেকনিশিয়ানরা
এই একচেটিয়া দাপট ও কাজের আসাম বণ্টনের জেরে ২০১১ সালের পর থেকেই টলিউডে সহকারী পরিচালকদের কাজের সংখ্যা কমতে শুরু করে। বর্তমানে ৫০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ সহকারী পরিচালক সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় কোনো কাজ না পেয়ে সংসার চালাতে তাঁরা এখন চরম বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় টলিপাড়ার কোনো অভিজ্ঞ সহকারী পরিচালক এখন নাগেরবাজারে অটো চালাচ্ছেন, কেউ বাজারে মাছ কাটছেন, আবার কেউ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মুদির দোকানে কাজ করছেন কিংবা বাড়ি বাড়ি রোল বিক্রি করছেন।
থানায় অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ইন্ডাস্ট্রির এই অরাজকতা ও ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ তথা অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে অবশেষে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সহকারী পরিচালকরা। কাজের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশের দাবিতে তাঁরা যৌথভাবে রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি জানিয়ে টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। টলিপাড়ার এই নজিরবিহীন সংকট ও বিক্ষোভের জেরে আগামী দিনে বাংলা চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিক নির্মাণের কাজে বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।