ডাম্পিং-বিরোধী শুল্ক না বসানোর চড়া মাসুল দিচ্ছে ভারত, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

ডাম্পিং-বিরোধী শুল্ক না বসানোর চড়া মাসুল দিচ্ছে ভারত, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

সস্তা বিদেশি পণ্যের ওপর ডাম্পিং-বিরোধী শুল্ক (অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি) লাগু না করার কারণে ভারতের অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পক্ষেত্র বড়সড় লোকসানের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি যৌথ গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারত যদি এই শুল্ক সঠিকভাবে কার্যকর করত, তবে প্রতি বছর প্রায় ২৮,৫৪০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হতো। সরকারের এই উদাসীনতার ফলে দেশীয় শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা ক্রমাগত বাড়ছে।

দেশীয় সংস্থাগুলোর বিপুল ক্ষতি এবং কর্মসংস্থানে সংকট

‘সি-ডিইপি রিসার্চ’ এবং ‘সেন্টার ফর ডাব্লিউটিও স্টাডিজ’-এর তৈরি এই যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর) অনেক পণ্যের ওপর ডাম্পিং-বিরোধী শুল্ক আরোপের সুপারিশ করলেও সরকার তা কার্যকর করেনি। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলো প্রতি বছর প্রায় ১১,৯৩৮ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ৩৩টি পণ্যের ওপর ভিত্তি করে করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, সস্তা আমদানির কারণে বর্তমানে দেশের প্রায় ১.৫৪ লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বেড়ে ২.৭০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি বর্তমানে প্রায় ২৪ হাজার কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৪২ হাজারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সুপারিশ খারিজের হিড়িক ও সম্ভাব্য প্রভাব

যখন কোনো বিদেশি কো ম্পা নি নিজের দেশের তুলনায় অত্যন্ত কম দামে অন্য দেশের বাজারে পণ্য বিক্রি করে স্থানীয় বাজার দখল করতে চায়, তখন তাকে ‘ডাম্পিং’ বলা হয়। ২০২০ সাল পর্যন্ত ভারত সরকার ডিজিটিআর-এর প্রায় সব সুপারিশই মেনে নিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা বদলেছে এবং বিশেষ করে নভেম্বর ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক প্রস্তাব সরকার কর্তৃক খারিজ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো এই শুল্ক আরোপ করা হলে দেশীয় শিল্প আরও শক্তিশালী হতো, নতুন বিনিয়োগ আসত এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যপূরণ সহজ হতো।

এক ঝলকে

  • ডাম্পিং-বিরোধী শুল্ক লাগু না করায় ভারতের প্রতি বছর প্রায় ২৮,৫৪০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা লোকসান হচ্ছে।
  • শুল্কের সুপারিশ কার্যকর না হওয়ায় ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোর বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ১১,৯৩৮ কোটি টাকা।
  • সস্তা বিদেশি পণ্যের আগ্রাসনে দেশের ২৪ হাজার মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
  • নভেম্বর ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে রেকর্ড সংখ্যক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *