‘তাড়াতাড়ি পালাও, নয়তো…’, অনুপ্রবেশকারীদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

‘তাড়াতাড়ি পালাও, নয়তো…’, অনুপ্রবেশকারীদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গে বেআইনিভাবে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য ছাড়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তাড়াতাড়ি চলে যাও, নয়তো সরকার যা করার করবে।” রাজ্যে কোনোভাবেই অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (Holding Center) গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

‘ওরা কি আমাদের জামাই?’ জেলবন্দি করার বিরোধিতা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার করে এ দেশের জেলে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “আমরা পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছি, এদের জেলে পাঠানোর দরকার নেই। এরা এ দেশের টাকায় খাবে, জামাকাপড় পাবে, ওষুধ পাবে। ওরা কি আমাদের জামাই নাকি? ওদের তাড়াতাড়ি চলে যাওয়া উচিত; নয়তো সরকার যা করার তা-ই করবে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ধৃতরা যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক, তাই তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। তিনি আরও যোগ করেন যে, সম্প্রতি ওপার বাংলার মুখপাত্ররাও সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে তাঁরা তাঁদের নাগরিকদের ফেরত নেবেন।

প্রতি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার ও সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে অর্পণ

রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ প্রশাসনিক রদবদলের কথা ঘোষণা করেছেন:

  • হোল্ডিং সেন্টার: দীর্ঘদিনের পুরোনো ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’ (Foreigners Act)-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন কোনো আইন নয়, বরং বিদ্যমান আইনের অধীনেই প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা উচিত। এই সেন্টারগুলো তৈরি হলে অনুপ্রবেশকারীরা ভয়ে নিজেরাই সীমান্ত পার হয়ে চলে যাবে।
  • বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর: পুলিশ কোনো অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করলে তাদের আর সাধারণ জেলে না রেখে, সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সীমান্তের কাঁটাতারের জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর

অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্বে ২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে যেখানেই প্রয়োজন হবে, সেখানেই রাজ্য সরকার আরও জমি দেবে।

তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) আওতায় পড়ে না, তাদের প্রত্যেককেই অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক ঝলকে

  • বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • অনুপ্রবেশকারীদের জেলে রেখে সরকারি অর্থ অপচয় না করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ।
  • দেশের সুরক্ষায় এবং ডেমোগ্রাফি বজায় রাখতে রাজ্যের প্রতি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ গড়ার পক্ষে সওয়াল।
  • ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করল রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *