‘জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের ছিল এবং থাকবে’, চীন-পাকিস্তানকে দিল্লির কড়া হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের চার দিনের চীন সফরের পর বেইজিং ও ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে ফের একবার কাশ্মীর ইস্যু টেনে আনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল ভারত। ২৫ মে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে কাশ্মীর সমস্যাকে ‘ইতিহাস থেকে চলে আসা বিরোধ’ আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) কাঠামো ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তা সমাধানের দাবি জানানো হয়।
চীন ও পাকিস্তানের এই অনধিকার চর্চাকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
অন্য দেশের মন্তব্য করার অধিকার নেই: রণধীর জয়সওয়াল
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বেইজিং ও ইসলামাবাদকে কড়া ভাষায় আইনা দেখিয়ে বলেন:
“কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং সর্বদা থাকবে। কোনো দ্বিতীয় বা বাইরের দেশের আমাদের এই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার বা নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই।”
সিপেক (CPEC) নিয়ে ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাতের অভিযোগ
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) ওপর দিয়ে যাওয়া চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে ভারত জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে:
- অবৈধ দখলদারিত্ব: পাকিস্তানের বেআইনি এবং জোরপূর্বক দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনের যেকোনো প্রকল্প বা পরিকাঠামো নির্মাণ আসলে সেই অবৈধ দখলদারিত্বকে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা। ভারত এর তীব্র বিরোধিতা ও খণ্ডন করছে।
- আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন: এই ধরনের পদক্ষেপ সরাসরি ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর বড় আঘাত। এই বিষয়টি পাকিস্তান ও চীন প্রশাসনকে এর আগেও বহুবার অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চীন ও পাকিস্তানের কোনো সাধারণ সীমান্তই নেই!
যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের মধ্যে ‘সীমা-পার জলসম্পদ সহযোগিতা’ (Cross-Border Water Resource Cooperation)-এর উল্লেখকেও হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি। রণধীর জয়সওয়াল এই প্রসঙ্গে ভৌগোলিক সত্য তুলে ধরে বলেন:
- সীমান্তহীন দুই দেশ: যেহেতু চীন এবং পাকিস্তানের মধ্যে ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিকভাবে কোনো সীমান্ত ভাগ হয় না, তাই তাদের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না।
- ১৯৬৩-র চুক্তি অবৈধ: পাকিস্তান কর্তৃক ভারতীয় ভূখণ্ড (PoK-র অংশ) চীনকে বেআইনিভাবে হস্তান্তর করার জন্য ১৯৬৩ সালে যে তথাকথিত ‘সীমান্ত চুক্তি’ হয়েছিল, ভারত তাকে কোনোদিন স্বীকৃতি দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।
এক ঝলকে
- চীন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের উল্লেখ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
- জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
- পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) চিনের ‘সিপেক’ (CPEC) প্রজেক্টকে ভারতের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে তোপ দাগল দিল্লি।
- ভৌগোলিক মানচিত্র মনে করিয়ে দিয়ে ভারত জানাল, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো সীমান্তই নেই, তাই জলসম্পদ চুক্তি অবান্তর।