আর্থিক বৈষম্য দূর করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ রাজ্যের ১২ হাজার বৃত্তিমূলক শিক্ষক!

রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও সরকারি স্তরের বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোর চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকেরা তাঁদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনটন ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছেন। বিগত বামফ্রন্ট আমল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে কর্মরত এই শিক্ষকেরা রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের কাজের স্থায়ীকরণ এবং সম্মানজনক বেতনের দাবিতে সরব হয়েছেন। সোমবার শিক্ষকদের প্রতিনিধি সংগঠন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের এই জ্বলন্ত সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
১২ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ ও বেতনের কঙ্কালসার রূপ
শিক্ষক সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২,২০০টি বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২,००० চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক পাঠদান করছেন। এই বিদ্যালয়গুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বৃত্তিমূলক কোর্সের পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কারিগরি শিক্ষা শেষ করে উচ্চশিক্ষার মূল স্রোতে পা রাখেন। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হওয়া সত্ত্বেও, এই শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যূনতম বেতনটুকু দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই শিক্ষকদের বর্তমান মাসিক বেতন মাত্র ৮,००० থেকে ১৫,००० টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
স্থায়ী কর্মীদের মতো দায়িত্ব, কিন্তু আর্থিক বৈষম্য
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, বেতন যৎসামান্য হলেও স্থায়ী শিক্ষকদের মতোই তাঁদের সমান দায়িত্ব পালন করতে হয়। নিয়মিত পঠনপাঠন চালানো ছাড়াও উচ্চ माध्यमिक স্তরের যাবতীয় রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ ও খতিয়ে দেখার কাজ করতে হয় তাঁদেরই। রাজ্য সরকারের অন্যান্য দফতরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের মতো তাঁদের ক্ষেত্রেও ২০২১ সাল থেকে বার্ষিক ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির নিয়ম চালু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মূল বেতন অত্যন্ত কম হওয়ায় এই সামান্য বৃদ্ধিতে বর্তমান বাজারদরে সংসার চালানো আসাম্ভব হয়ে পড়েছে।
নতুন নীতি তৈরির আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
শিক্ষক সংগঠনের দাবি, তাঁদের সমস্ত অভাব-অভিযোগ ও বকেয়া দাবির কথা শোনার পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি দফতর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট এবং স্থায়ী নীতি (Specific Policy) তৈরি করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে রাজ্যের নতুন সরকার।
এক ঝলকে
- দীর্ঘদিনের আর্থিক অনটন কাটাতে এবং সম্মানজনক বেতনের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের বৃত্তিমূলক শিক্ষকেরা।
- রাজ্যের ২,২০০টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষকের মাসিক বেতন মাত্র ৮,००० থেকে ১৫,০০০ টাকা, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
- উচ্চশিক্ষিত এই শিক্ষকেরা ১৫-২০ বছর ধরে স্থায়ী কর্মীদের সমান দায়িত্ব পালন করলেও চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
- চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের এই দুরবস্থা দূর করতে এবং একটি স্থায়ী কর্মী-নীতি তৈরি করতে নতুন সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।