শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ তৃণমূলের দুই বেসুরো বিধায়কের, ঋতব্রতর মন্তব্যে তুঙ্গে ‘অপারেশন লোটাস’-এর জল্পনা!

শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ তৃণমূলের দুই বেসুরো বিধায়কের, ঋতব্রতর মন্তব্যে তুঙ্গে ‘অপারেশন লোটাস’-এর জল্পনা!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর ঘরের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই ‘বেসুরো’ বিধায়ক— সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় যখন তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদকে সরকারি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে, ঠিক তখনই বিধানসভার ভেতরে বিজেপির একাধিক বিধায়কের উপস্থিতিতে এই দুই নেতার বৈঠক ‘অপারেশন লোটাস’ (Operation Lotus)-এর জল্পনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

‘ভুল সংশোধন করছি’— ঋতব্রতর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকের পর দুই তৃণমূল বিধায়কই সংবাদমাধ্যমের সামনে একে একটি ‘সৌজন্যমূলক’ সাক্ষাৎ বলে ধামাচাপা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাঁদের দাবি, স্রেফ নিজেদের এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে সমস্ত জল্পনা ও বিতর্ককে এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলবদলের জল্পনা উস্কে দিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত বিস্ফোরক ভঙ্গিতে প্রশ্ন তোলেন, “বিগত পনেরো বছরের ভুল সংশোধন করতে সমস্যা কোথায়?” তাঁর এই একটি মন্তব্যই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তৃণমূলের অন্দরে ফাটল কতটা গভীর এবং শাসক শিবিরের জনপ্রতিধিদের একাংশ এখন কোন দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন।

সাংসদ সুখেন্দুর পর এবার বিধায়কদের নিশানা?

উল্লেখ্য, একই দিনে তৃণমূলের প্রবীণ রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনগণ এক অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি বিধানসভার ভেতরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের দুই বিধায়কের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও ‘ভুল সংশোধনের’ বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটের পর পূর্ব ভারতে আঞ্চলিক দলগুলোকে কোণঠাসা করার যে ব্লু-প্রিন্ট বিজেপি তৈরি করেছে, বাংলায় তার প্রথম ধাপ হয়তো শুরু হয়ে গেছে।

উন্নয়নের অজুহাতে দলবদল এড়ানোর কৌশল?

তৃণমূলের অন্দরের খবর, এই দুই বিধায়ক যেভাবে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়েছেন, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বিশেষ করে দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-defection Law) যাতে কার্যকর না হতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করেই কি এই সমস্ত বিধায়করা একে একে শুভেন্দু অধিকারীর দিকে ঝুঁকছেন, তা নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করেনি, তবে দলের ভেতরের এই তীব্র ডামাডোল এবং একের পর এক বিধায়কের ‘বেসুরো’ মন্তব্য নতুন সরকারকে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে এনে দিচ্ছে।

এক ঝলকে

  • বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • “বিগত ১৫ বছরের ভুল সংশোধন করতে সমস্যা কোথায়?”— মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর বিস্ফোরক মন্তব্য বিধায়ক ঋতব্রতর।
  • সৌজন্য সাক্ষাৎকার বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, এই বৈঠককে বাংলায় বিজেপির ‘অদৃশ্য অপারেশন লোটাস’-এর অংশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
  • সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার দুই বিধায়কের এই অবস্থানে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও ক্ষোভ আরও প্রকাশ্যে চলে এলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *