DA: রাজ্যকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) মামলায় এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের তরফে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হলো। বুধবার শীর্ষ আদালতে এই বহুল চর্চিত মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পি কে মিশ্র-এর ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে একটি বিশদ ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ (Status Report) বা বর্তমান পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেলের বড় বয়ান
এদিনের শুনানিতে দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে রাজ্যের এক বড় প্রশাসনিক ডেভেলপমেন্টের কথা জানান। তিনি বেঞ্চের সামনে উল্লেখ করেন, “আগামী ৩০ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের কর্মচারী সংগঠন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে বসবেন। আশা করা হচ্ছে, এই আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি ইতিবাচক সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে।”
(উল্লেখ্য, প্রশাসনিক কারণে এই বৈঠকটি ৩০ মে-র বদলে আগামী ১ জুন নবান্নে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।)
আদালতের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপ
কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেলের এই বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএ-র বর্তমান স্থিতি কী, রাজ্য এই বিষয়ে কী ভাবছে এবং কর্মচারীদের দাবি মেটাতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বা হবে—তা স্পষ্ট করে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট আকারে আদালতে পেশ করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে রাজ্য প্রশাসনের ওপর বকেয়া ডিএ মেটানোর আইনি ও নৈতিক চাপ আরও কিছুটা বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সর্বোচ্চ আদালতের এই কড়া নজরদারির আবহে মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারি কর্মচারীদের আসন্ন বৈঠকটি যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
এক ঝলকে
- বকেয়া ডিএ মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি পি কে মিশ্র-এর বেঞ্চ।
- বুধবার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, কর্মচারীদের সাথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকেই সমস্যার সমাধান মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশের পর রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে আইনি জয়ের আশা আরও উজ্জ্বল হলো।