তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ সুশান্ত ঘোষ, সুবিচারের আশায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দ্বারস্থ!

কলকাতা পুরসভার (KMC) ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বিগত ২০২০ এবং ২০২৪ সালে তাঁর ওপর দু-দুবার প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলেও নিজের দলের সরকার এই ঘটনার কোনো সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি। উল্টে ঘটনার মূল অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এই অপরাধের দায় তাঁর নিজের অনুগামীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তদন্তে অনাস্থা ও ব্যক্তিগত আইনি লড়াই
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বিদায়ী বরো চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সরকারি স্তরে সাহায্য না পাওয়ায় তিনি নিজের ব্যক্তিগত আইনজীবীর সহায়তায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাতেই অন্যান্য অভিযুক্তদের এখনো আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে। দলীয় সরকারের তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলায় এবং প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই তিনি পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
নয়া মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি
বিগত সরকারের নিষ্ক্রিয়তার পর এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে সরাসরি নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সুশান্ত ঘোষ। তাঁর ওপর হওয়া পুরনো হামলাগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের শাস্তির জন্য তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তদন্তভার খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন। একজন ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলর হয়েও সুবিচারের দাবিতে বিরোধী শিবিরের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন হওয়ার এই ঘটনা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ।
- ২০২০ এবং ২০২৪ সালে নিজের ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় দলীয় সরকারের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি।
- মূল অভিযুক্তদের জামিন পাওয়া এবং তদন্তের দিক ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি ব্যক্তিগত আইনজীবীর মাধ্যমে লড়াই চালাচ্ছেন।
- সুষ্ঠু তদন্ত ও সুবিচারের দাবিতে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সরাসরি আর্জি জানিয়েছেন সুশান্ত ঘোষ।