ভোটের বিপর্যয়ের পর ক্ষুব্ধ অরূপের ইস্তফা, দলের ‘কেষ্টু-বিষ্টু’ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তুললেন বিস্ফোরক প্রশ্ন!

কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী। সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, মানুষের রায়কে সবসময় মাথা পেতে নেওয়া উচিত। হার স্বীকার করতে না পারলে দলের আগের সব জয়ই মিথ্যা হয়ে যায়। এই কঠিন সময়ে দলের সাধারণ কর্মীরা যখন চরম বিপদের মুখে, তখন শীর্ষ নেতাদের একাংশের অন্তর্ধান নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
সুবিধাবাদী নেতাদের খোঁজে কড়া বার্তা
দলের দুর্দিনের পাশে না দাঁড়িয়ে ক্ষমতার সুবিধাভোগীরা এখন নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অরূপ চক্রবর্তী। তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে প্রশ্ন তোলেন, এতদিন যাঁরা মন্ত্রী হিসেবে সমস্ত রকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তাঁরা আজ কর্মীদের বিপদে কোথায় লুকিয়ে আছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া দলের বাকি প্রথম সারির নেতৃত্বকে এখন কেন ময়দানে দেখা যাচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিলাসিতা ও বর্তমান নিষ্ক্রিয়তার ওপর আঘাত
দলের প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট নেতাদের আক্রমণ করতে গিয়ে অরূপ চক্রবর্তী ‘কেষ্টু-বিষ্টু’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতার সময়ে যাঁদের কনভয়ের আগে-পিছনে ৪ থেকে ৫টি করে বিলাসবহুল গাড়ি থাকত, আজ দলের সংকটের দিনে সেই নেতাদের কোনো খোঁজ নেই কেন? এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে প্রথম সারির নেতাদের এই নিষ্ক্রিয়তা ও দূরত্ব বজায় রাখার নীতিকে তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বলেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক ঝলকে
- কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী।
- সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে সাধারণ কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
- দলীয় সংকটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কোনো শীর্ষ নেতাকে পাশে না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
- ক্ষমতার সময়ে বিপুল সুযোগ-সুবিধা ও কনভয় নিয়ে ঘোরা প্রভাবশালী ‘কেষ্টু-বিষ্টু’ নেতাদের বর্তমান নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।