যুদ্ধবিরতির মাঝেই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন নামিয়ে পাল্টা ‘উচিত জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির আবহে ফের তৈরি হলো চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থিতু হওয়ার আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলল তেহরান। দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস (Bandar Abbas) শহরের একটি প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) আচমকা হামলা চালালে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে পারমাণবিক ও সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আত্মরক্ষা বনাম আগ্রাসনের তীব্র তরজা
ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে এই আকস্মিক হামলার সপক্ষে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দ্রুত সাফাই দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক আধিকারিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত পারস্য উপসাগরে (Persian Gulf) ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে মাইন পোঁতার প্রস্তুতি চলছিল। সেই মাইন ছড়ানোর বিপজ্জনক প্রচেষ্টা রুখতে এবং নিজেদের নৌবাহিনীর আত্মরক্ষার্থেই এই আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মার্কিন সেনা। তবে তেহরান আমেরিকার এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও আগ্রাসী নীতি বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন ড্রোন ধ্বংস ও তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তেহরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় পারস্য উপসাগরের ওপর মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ড্রোনকে তারা সফলভাবে চিহ্নিত করে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপতিত করেছে। এই ঘটনার পরই ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে ইরান জানিয়েছে, এই ধরনের একতরফা সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং এর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে ভবিষ্যতে আরও কঠিন ও ‘উচিত জবাব’ দেওয়া হবে।
এক ঝলকে
- আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতির আবহেই দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালাল মার্কিন সেনা।
- পারস্য উপসাগরে ইরানের মাইন পোঁতা রুখতে এবং আত্মরক্ষার স্বার্থেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি আমেরিকার।
- মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে আকাশেই একটি মার্কিন ড্রোন ভূপতিত করার দাবি করেছে ইরান।
- সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আমেরিকাকে কঠিন ও উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।